দৌলত উজির বাহরাম খান কোন কোন অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন ?
দৌলত উজির বাহরাম খান (আনু. ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি। তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন। পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন। তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।
বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন: লায়লী-মজন ও ইমাম-বিজয়। উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য। লায়লী-মজনু মূলত আধ্যাত্মিক কাব্য, কিন্তু বাংলা অনুবাদে তা পরিণত হয়েছে মানবিক প্রেমকাব্যে। বাহরাম খানই প্রথম লায়লী-মজনুর মতো বিশ্বখ্যাত বিরহমূলক প্রেমকাহিনী নিয়ে বাংলা ভাষায় কাব্য রচনা করেন।
একই কাহিনী অবলম্বনে মুহম্মদ খাতের ১৮৬৪ সালে দোভাষী পুথি এবং শেখ ফজলুল করিম ১৯০৩ সালে আখ্যানকাব্য রচনা করেন।
Related Questions
চর্যাপদের ভাষাকে কেউ কেউ সন্ধ্যাভাষা বা সন্ধাভাষা বলেছেন যার অর্থ আলো আঁধারি ভাষা , যা কিছু বুঝা যায় কিছু বোঝা যায় না।
গঠননৈপুণ্যের দিক থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের অধিকাংশ পদই কৃষ্ণ-রাধা-বড়ায়ির সংলাপ ।
• কোনো কোনো পদ দুজনের উক্তি-প্রত্যুক্তি এবং রাধা বা কৃষ্ণের একান্ত মনোভাব প্রকাশ করে । যেহেতু কথোপকথনে মনোভাবের ঘাত-প্রতিঘাত প্রকাশ পেয়েছে তাই এগুলোকে গানে রচিত নাটকীয় সংলাপও বলা যায় ।
• রসগত দিক থেকে সমগ্র কাব্যজুড়ে ধামালি প্রধান হয়ে উঠেছে ।
• ধামালি কথাটির অর্থ রঙ্গরস, পরিহাস কাব্য কৌতুক ।
• রঙ্গ তামাসার কালে কপট দম্ভ প্রকাশ করে যে সব উক্তি করা হয়, প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে তাকে ধামালি বলে ।
• বড়ু চণ্ডীদাস তার বিবরণে লিখেছেন- 'রঙ্গে ধামালি বোলে দেব বনমালী' ।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন অঙ্গিক বা গঠনগত দিকে দেব বনমালী' ।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আঙ্গিক বা গঠনগত দিক থেকে নাটগীতি, প্রকরণে পদাবলি, শোণিত প্রেমগীতি ও রস সঞ্চালনায় ভূমিকা পালন করেছে ধামালি ।
একটি সার্থক বাক্যের তিনটি বৈশিষ্ট্য থাকবে। যথা : ১. আকাঙ্ক্ষা : বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত একটি পদের পর অন্যপদ শোনার যে আগ্রহ জাগে তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে। ২. আসত্তি : বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর মাঝে অর্থের সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য সুশৃঙ্গল পদবিন্যাসকেই বলা হয় আসত্তি। ৩. যোগ্যতা : বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
বাংলা 'অনা' প্রত্যয় যোগে √খেল্+অনা = খেলনা শব্দটি গঠিত হয়েছে।
এরূপে গঠিত আরেকটি শব্দ হলোঃ
√দুল+অনা = দুলনা > দোলনা।
কিন্তু √কৃ+নক = কারক;
√লিখ্+ত = লিখিত;
√বিদ্+অন+আ = বেদনা সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়েছে।
ব্যক্ত (সংকৃত) বিশেষণ পদ, অর্থ প্রকাশ পেয়েছে এমন, প্রকাশিত, স্পষ্ট, প্রকট । গূঢ় (সংস্কৃত) বিশেষণ পদ, অর্থ গুপ্ত, লুক্কায়িত, দুর্বোধ্য, জটিল । সুতরাং ব্যক্ত এর বিপরীত শব্দ গূঢ় । ত্যক্ত, গ্রাহ্য ও দৃঢ় শব্দের বিপরীত শব্দ যথাক্রমে গৃহীত, অগ্রাহ্য ও শিথিল ।
সদ্যঃ + জাত + সদ্যোজাত । অ - কারের পরস্থি স্ - জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্প প্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্যধ্বনি কিংবা অন্তস্থ ব,র,ল,হ থাকলে অ - কার ও স - জাত বিসর্গ উভয় স্থলে ও - কার হয়। যেমন - তিরঃ + ধান = তিরোধান , মনঃ + রম = মনোরম, তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।
জব সলুশন