ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ এর প্রতিষ্ঠা কোন খ্রিস্টাব্দে ?
১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় মুসলিম সাহিত্য - সমাজ। সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংগঠনটি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ এফ এম আবদুল হক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবদুল কাদিরসহ আরো কয়েকজন। এঁরাই ছিলেন প্রথম কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য। নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কাজী আবদুল ওদুদ ও যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদীর।
Related Questions
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগের শিক্ষক নয় 'রামমোহন রায়'।
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন উইলিয়াম কেরি, রাম রাম বসু, তারিণীচরণ মিত্র, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রমুখ। উল্লেখ্য, কেরি ছিলেন বাংলা বিভাগের প্রধান।
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (আনু. ১৭৬২ - ১৮১৯) সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক। তৎকালীন ওড়িষা প্রদেশের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। নাটোর - রাজের দরবারে লেখাপড়া শিখে তিনি সংস্কৃত পন্ডিতে পরিণত হন। তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড - পন্ডিত নিযুক্ত হন। পরে ১৮০৫ সালে আবার কেরীর সুপারিশে তিনি বাংলার সঙ্গে সংস্কৃত বিভাগেরও হেড পন্ডিতের দায়িত্ব লাভ করেন। ১৮১৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি এ কলেজে কাজ করেন। পরে কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ - পন্ডিত হিসেবে।
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলি: বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), হিতোপদেশ (১৮০৮), রাজাবলী (১৮০৮) এবং প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)। এছাড়া পরে ১৮১৭ সালে তিনি লেখেন বেদান্তচন্দ্রিকা। এসব গদ্য প্রায় সবই অনুবাদমূলক। তা সত্ত্বেও তাঁর রচনা - রীতির কারণে অনেকটা মৌলিক রূপ লাভ করেছে।
তিনি সংস্কৃত পন্ডিত ছিলেন বলে অনেকেই তাঁকে সামাজিক বিষয়ে রক্ষণশীল বলে বিবেচনা করতেন। কিন্তু কোনো কোনো বিষয়ে তিনি ছিলেন পুরোপুরি আধুনিক। যেমন, সতীদাহ প্রথার পক্ষে প্রচার চালাতে গিয়ে রামমোহন রায় যেসব শাস্ত্রীয় অনুমোদনের কথা উল্লেখ করেন, সেগুলি আগেই মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার লিখেছিলেন।
গয়া, বৃন্দাবন ইত্যাদি হিন্দু তীর্থস্থান ভ্রমণ করে ফেরার সময়ে মৃত্যুঞ্জয় ১৮১৯ সালের জুন মাসে মুরশিদাবাদের কাছে মারা যান।
জব সলুশন