ভাষার কোন রীতি কেবলমাত্র লেখ্যরূপে ব্যবহৃত হয়?
বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত লেখ্য রূপ হচ্ছে সাধু রীতি। এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল। এ রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতায় অনুপযোগী।
Related Questions
ব্যাখ্যা:
চলিত রীতি: এই রীতিতে লেখার ভাষা এবং কথা বলার ভাষা প্রায় একই রকম হয়। অর্থাৎ, আমরা যেভাবে কথা বলি, চলিত রীতিতে ঠিক সেভাবেই লেখা হয়। এটি আধুনিক এবং সহজবোধ্য।
সাধু রীতি: এটি কেবল লৈখিক রূপেই সীমাবদ্ধ ছিল, মৌখিক বা কথা বলার ক্ষেত্রে এই রীতি ব্যবহৃত হতো না।
আঞ্চলিক রীতি: এটি কেবল নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষের মুখের ভাষা, যা সাধারণত প্রমিত লৈখিক রূপে ব্যবহৃত হয় না।
মিশ্র রূপ: এটি বিভিন্ন ভাষার সংমিশ্রণকে বোঝায়, লৈখিক ও মৌখিকের সমন্বয়কে নয়।
সঠিক উত্তর হলো: **খ) লেখ্য**।
**ব্যাখ্যা:**
সাধু ও চলিত রীতি বাংলা ভাষার **লেখ্য (লৈখিক)** রূপের অন্তর্ভুক্ত। বাংলা ভাষার প্রধানত দুটি রূপ রয়েছে: একটি হলো মৌখিক (মুখের কথা) এবং অন্যটি হলো লেখ্য (লেখার ভাষা)। লেখ্য রূপেরই দুটি প্রধান শৈলী বা রীতি হচ্ছে সাধু ও চলিত।
* **সাধু রীতি:** এটি কেবল লেখ্য রূপেই ব্যবহৃত হতো, মৌখিক কথোপকথনে এর ব্যবহার ছিল না।
* **চলিত রীতি:** এটি শিক্ষিত মানুষের মুখের মার্জিত ভাষা থেকে এলেও বর্তমানে এটি লেখ্য ভাষার প্রধান এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় রীতি।
* **আঞ্চলিক ও উপভাষা:** এগুলো মূলত ভাষার মৌখিক বা কথ্য রূপের বৈচিত্র্যকে নির্দেশ করে।
বাংলা লেখ্য ভাষার প্রধান দুটি রূপ হলো সাধু রীতি এবং চলিত রীতি, এই দুটি রীতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো: সাধু রীতি: ভাষার যে রূপটি সুনির্দিষ্ট ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে, একটু গুরুগম্ভীর এবং তৎসম (সংস্কৃত) শব্দবহুল, তা হলো সাধু ভাষা। এই রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের রূপ পূর্ণাঙ্গ থাকে (যেমন— চলিতেছে, খাইতেছে)। চলিত রীতি: সাধারণ মানুষের মুখের ভাষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সহজ ও সাবলীল রূপটিই হলো চলিত ভাষা। এটি সর্বজনগ্রাহ্য এবং এতে তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত ও সহজ শব্দের ব্যবহার হয় (যেমন— চলছে, খাচ্ছে)। বর্তমানে প্রমিত রূপটিই চলিত ভাষার আদর্শ মান।
বাংলা ভাষারীতির রুপ দুটি। সাধু ভাষা রীতি ও চলিত ভাষা রীতি। যে ভাষা সুনির্ধারিত ব্যাকরণ অনুসরণ করে চলে সটি সাধু ভাষা রীতি। আর চলিত ভাষা রীতি পরিবর্তনশীল।
ভারতীয় ভাষার নিদর্শন যে গ্রন্থে পাওয়া যায়, তার নাম হলো ঋগ্বেদ। ঋগ্বেদ হলো ভারতে রচিত সবচেয়ে প্রাচীন সাহিত্য গ্রন্থ। এটি সংস্কৃত ভাষায় লেখা, এবং এর মধ্যে প্রথমবার ভারতীয় ভাষার লিখিত রূপ ও শব্দচয়ন দেখা যায়। তাই এটি ভারতীয় ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।
বাংলা ভাষার আদিস্তর ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, দশম থেকে চতুর্দশ শতাব্দী। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লার মতে, সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী।
জব সলুশন