কথ্যরীতি সমন্বয়ে শিষ্টজনের ব্যবহৃত ভাষাকে কী বলে?
কথ্যরীতি সমন্বয়ে শিষ্ট বা শিক্ষিতজনের ব্যবহৃত ভাষাকে আদর্শ চলিত ভাষা বা মান্য চলিত ভাষা বলে। এটিই বর্তমানে বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য ও মানদণ্ড লিখিত রূপ।
Related Questions
'প্রমিত বাংলা ভাষা' বলতে মূলত সর্বজনগ্রাহ্য ও আদর্শ চলিত রীতির বাংলা ভাষাকে বোঝায়। এটি আঞ্চলিকতার ঊর্ধ্বে উঠে নির্দিষ্ট ব্যাকরণ ও বানান মেনে চলে। শিক্ষা, প্রশাসন, গণমাধ্যমসহ সকল আনুষ্ঠানিক কাজে এই মান্য বা প্রমিত রূপটি ব্যবহৃত হয়
লিখিত বাংলা বা লেখ্য ভাষারীতিকে প্রধানত সাধু ও চলিত (বর্তমানে চলিত রীতির মানসম্মত আদর্শ রূপই প্রমিত রীতি) রীতিতে ভাগ করা যায় । প্রমিত রীতি চলিত রীতিরই আধুনিক রূপ, এটি নিজে সাধু ও চলিতে বিভক্ত নয়।
চলিত ভাষার আদর্শরূপে গৃহীত ভাষাকে প্রমিত ভাষা বলা হয়। এটি সমগ্র শিক্ষিত সমাজ কর্তৃক গৃহীত ও ব্যবহৃত সর্বজনীন এবং মানসম্মত ভাষারূপ।
বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষার (সাধু রীতির পরিবর্তে মুখের ভাষার) প্রচলন ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে প্রমথ চৌধুরী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিলেন। তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত 'সবুজপত্র' পত্রিকার হাত ধরেই বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির এক নতুন বিপ্লব ঘটে, যা স্বয়ং রবীন্দ্রনাথকেও দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে।
প্রমথ চৌধুরীর ‘বীরবলী’ রীতির প্রচারমাধ্যম হিসাবে ভূমিকা রাখে সবুজপত্র পত্রিকা।
সঠিক উত্তর চলিত ভাষা
প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনার ১৯১৪ সালে মাসিক ‘সবুজপত্র’ প্রকাশিত হয়। সাধু গদ্যরীতির পরিবর্তে চলিত গদ্যরীতি প্রচলনের মাধ্যমে বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম। সাহিত্যজগতে এই পত্রিকা ‘সবুজপত্র গোষ্ঠী’ তৈরি করে।
জব সলুশন