টপিকঃ বাংলা ভাষা

বিষয়

বাংলা ব্যাকরণ

Free: 10 Qs

1.

উজবুক' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?

ক) ফার্সি
খ) তুর্কি
গ) পর্তুগিজ
ঘ) আরবি
Note :

উজবুক' শব্দটি তুর্কি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে। তুর্কি ভাষা থেকে আসা আরো কয়েকটি শব্দ হলো: চকমক, তালাশ, বাবুর্চি ,সওগাত,খোকা, বাবা ইত্যাদি।

2.

কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে?

ক) ভারতীয় আর্য
খ) সংস্কৃত
গ) ইন্দো-ইউরোপীয়
ঘ) বঙ্গ-কামরূপী
Note :

বঙ্গকামরুপী ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।

খ্রিস্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দ থেকে বাংলায় হিন্দু ব্রাহ্মণগণ সংস্কৃত ভাষার চর্চা করত,  কিন্তু স্থানীয় বৌদ্ধরা প্রাকৃত ভাষার কোন কোন রূপে (ভ্যারাইটি) কথা বলত,  যাকে ডঃ সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় উল্লেখ করেছেন মাগধী প্রাকৃতের পূর্ব রূপ বা ভ্যারাইটি হিসেবে।  গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময়,  বাংলা ছিল হিন্দু যাজক বা পুরোহিতদের জন্য সংস্কৃত সাহিত্যের একটি কেন্দ্র,  যা স্থানীয়দের কথ্য ভাষাকে প্রভাবিত করে।

প্রথম সহস্রাব্দে বাংলা যখন মগধ রাজ্যের একটি অংশ ছিল তখন মধ্য ইন্দো - আর্য উপভাষাগুলি বাংলায় প্রভাবশালী ছিল।  এই উপভাষাগুলিকে মাগধী প্রাকৃত বলা হয় এবং এটি আধুনিক বিহার,  বাংলা ও আসামে কথিত হত।  এই ভাষা থেকে অবশেষে অর্ধ - মাগধী প্রাকৃতের বিকাশ ঘটে।  

প্রথম সহস্রাব্দের শেষের দিকে অর্ধ - মাগধী থেকে অপভ্রংশের বিকাশ ঘটে।  সময়ের সাথে সাথে বাংলা ভাষা একটি স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে বিকশিত হয়।

3. কোনটি ভাষাবংশের নাম নয়?

ক) আফ্রিকীয়
খ) দ্রাবিড়ীয়
গ) ইন্দো-ইউরোপীয়
ঘ) হিস্পানি

4.

বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়-

ক) সপ্তম খ্রিষ্টাব্দে
খ) খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতকে
গ) সপ্তম খ্রিষ্টপূর্বাব্দে
ঘ) খ্রিষ্টীয় দ্বাদশ শতকে
Note :

বাংলা ভাষার উদ্ভব হয় সপ্তম খ্রীষ্টাব্দে। বাংলা ভাষা বিকাশের ইতিহাস ১৩০০ বছর পুরোনো। চর্যাপদ এ ভাষার আদি নিদর্শন। মধ্যভারতীয় আর্য ভাষাকে প্রাকৃত ভাষা বলে। প্রাকৃত ভাষার একটি শাখা হচ্ছে মাগধী ভাষা। মাগধী ভাষার পরের রূপ হচ্ছে মাগধী অপভ্রংশ বা অবহটঠ। আর এ ভাষা থেকে ৭ম খ্রীষ্টাব্দে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।

5.

'প্রাকৃত' শব্দটির অর্থ-

ক) প্রকৃত
খ) যথার্থ
গ) যা করা হয়েছে
ঘ) স্বাভাবিক
Note :

প্রাকৃত অর্থ স্বাভাবিক, প্রাকৃত ভাষার নামকরণ প্রসঙ্গে কেউ কেউ বলেন যে, এর প্রকৃতি বা মূল হচ্ছে 'সংস্কৃত', তাই প্রকৃতি থেকে উদ্ভূত বলে এর নাম হয়েছে প্রাকৃত। আবার কেউ কেউ বলেন, 'প্রকৃতি' অর্থ সাধারণ জনগণ এবং তাদের ব্যবহূত ভাষাই প্রাকৃত ভাষা, অর্থাৎ প্রাকৃত জনের ভাষা প্রাকৃত ভাষা।

6.

প্রাকৃত শব্দের ভাষাগত অর্থ-

ক) মূর্খদের ভাষা
খ) পণ্ডিতদের ভাষা
গ) জনগণের ভাষা
ঘ) লেখকদের ভাষা
Note :

- প্রাকৃত বা প্রাকৃত ভাষা কথাটির তাৎপর্য হলো প্রকৃতির অর্থাৎ জনগণের কথ্য ও বোধ্য ভাষা।
- এক পর্যায়ে এ প্রাকৃত ভাষাই ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রভাবে, কথ্য ভাষার উচ্চারণের বিভিন্নতা অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করে।
- এ প্রাকৃত ভাষাই আঞ্চলিক বিভিন্নতা নিয়ে বিভিন্ন নামে চিহ্নিত হয়। যেমন - মাগধি প্রাকৃত, মহারাষ্ট্রি প্রাকৃত, শৌরসেনি প্রাকৃত ইত্যাদি।
- মাগধি প্রাকৃতের অপভ্রংশ থেকেই কালক্রমে বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে উৎপত্তি লাভ করে বাংলা ভাষা।

7.

কোনটি ভাষার বৈশিষ্ট্য নয়?

ক) অর্থদ্যোতকতা
খ) ইশারা বা অঙ্গভঙ্গি
গ) মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত ধ্বনি
ঘ) জনসমাজে ব্যবহার যোগ্যতা
Note :

ভাষার মূল উপাদান ধ্বনি। ধ্বনির সাহায্যে ভাষার সৃষ্টি হয়। আবার ধ্বনি সৃষ্টি হয় বাগযন্ত্রের দ্বারা। মানুষের কন্ঠ নিঃসৃত বাক সংকেতের সংগঠন কে ভাষা বলে। গলনালি, মুখবিবর, কন্ঠ, জিহ্বা, তালু, দাঁত, নাক ইত্যাদি বাক প্রত্যঙ্গকে বাকযন্ত্র বলে। ইশারা বা অঙ্গভঙ্গির সাহাযে মনের ভাব সম্পুর্ণ রূপে প্রকাশ পাই না। তাই এটি ভাষার অন্তর্ভুক্ত নয়।

8.

কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে বলে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন?

ক) গৌড়ীয় অপভ্রংশ
খ) মাগধী অপভ্রংশ
গ) গৌড় অপভ্রংশ
ঘ) প্রাচীন অবহটঠ
Note :

ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ তার ‘বাঙ্গাল ভাষার ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থে লিখেছেন, গৌড়ীয় প্রাকৃতের পরবর্তী স্তর গৌড়ীয় অপভ্রংশ থেকে ভাষার উৎপত্তি ।

9.

কেন্দ্রমের কোন দুটি শাখা এশিয়ার অন্তর্গত?

ক) হিত্তিক ও তুখারিক
খ) তামিল ও দ্রাবিড়
গ) আর্য ও অনার্য
ঘ) মাগধী ও গৌড়ী
Note :

কেন্তুম ভাষা (Kentum languages) ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের একটি শাখা।

- হিত্তিক (Hittite) ছিল একটি প্রাচীন আনাতোলিয়ান ভাষা, যা আনাতোলিয়ায় (আধুনিক তুরস্ক, যা এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত) ব্যবহৃত হত।
- তুখারিক (Tocharian) ছিল একটি ভাষা পরিবার যা তারিম বেসিনে (আধুনিক জিনজিয়াং, চীন, যা এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত) প্রচলিত ছিল।

10.

'অপভ্রংশ' কথাটির অর্থ কি?

ক) উন্নত
খ) বিবৃত
গ) সাধারণ
ঘ) বিকৃত
Note :

অপভ্রংশ বলতে মধ্য ইন্দো-আর্য ভাষার (তথা প্রাকৃত ও পালি ভাষার) পরবর্তী ঐতিহাসিক ধাপকে বোঝায়। সংস্কৃত ব্যাকরণবিদ পতঞ্জলির মহাভাষ্য গ্রন্থে সর্বপ্রথম "অপভ্রংশ" শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত কিছু অশিষ্ট শব্দকে নির্দেশ করার জন্য শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।

You've reached the free limit!

You can only see 10 questions with free access.

Login to upgrade