টপিকঃ বাংলা ভাষারীতি
2.
বাংলা ভাষার সর্বজন গ্রাহ্য লিখিত রূপ কোনটি?
বাংলা ভাষার প্রমিত রূপকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে একটি সাধু ভাষা, অন্যটি চলিত ভাষা।
সাধু ভাষা সংস্কৃত বা তৎসম শব্দবহুল। চলিত ভাষা তদ্ভব এবং দেশী-বিদেশী শব্দবহুল। প্রমিত বা লেখ্য বাংলার আবার দুটি রূপ- সাধু ও চলিত। সাধু ভাষা অনেক ক্ষেত্রে সন্ধি ও সমাসবদ্ধ পদে আড়ষ্ট। এর ক্রিয়াপদ দীর্ঘ।
অপরপক্ষে, চলিত ভাষার গতি স্বচ্ছন্দ। এর ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গদ্যরীতি সাধু ভাষায় গড়ে উঠেছে। কারণ বাংলা গদ্য সৃষ্টির প্রাথমিক পর্বে সংস্কৃতজ্ঞ পন্ডিতেরা সাহিত্য সৃষ্টির দায়িত্বে ছিলেন। রাজা রামমোহন রায়, মৃত্যুঞ্জয় তর্কালংকার, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাগর প্রভৃতি প-িতদের হাতে সাধু রীতিতে বাংলা গদ্যের সূত্রপাত।
তাই, সার্বজনীন লিখিতরূপ হিসেবে সাধু ভাষা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ।
3.
সাধু রীতিতে কোন পদটির দীর্ঘরূপ হয় না?
সাধু রীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের দীর্ঘতর রূপের ব্যবহার (যেমন- ক্রিয়া: চলিতেছে; সর্বনাম: তাহার)। কিন্তু অব্যয় পদের কোনো রূপান্তর বা পরিবর্তন ঘটে না। তাই এর কোনো দীর্ঘরূপ হয় না। এটি উভয় রীতিতে একই থাকে।
4.
'তৎসম' শব্দের ব্যবহার কোন রীতিতে বেশি হয়?
5.
ক্রিয়া , সর্বনাম ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়-
সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎপন্ন ভাষাকে সাধু ভাষা হিসেবে অভিহিত করা হয় । সাধুরীতি ব্যাকরণের নির্দিষ্ট ইয়ম অনুসরণ করে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত । এ রীতিতে সর্বনাম, ক্রিয়া ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহার করা হয় । যেমনঃ আসিয়া (সাধু) > এসে (চলিত); তাহাকে (সাধু) > তাকে (চলিত); অপেক্ষা(সাধু) > চেয়ে (চলিত) ।
6.
দেশ-কাল ও পরিবেশভেদে কিসের পার্থক্য ঘটে?
মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত বাক সংকেতের সংগঠন কে ভাষা বলা হয়। অর্থাৎ বাগযন্ত্রের দ্বারা সৃষ্ট অর্থবোধক ধ্বনির সংকেতের সাহায্যে মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যমই হলো ভাষা। দেশ, কাল ও পরিবেশভেদে ভাষার পরিবর্তন ঘটে। এইজন্য বিভিন্ন দেশের মানুষ বিভিন্ন ভাষায় কথা বলে। কোন দেশের ভাষা বাংলা, কোন দেশের ইংরেজি ইত্যাদি।
7. বাংলা ভাষার সাধু ও চলিতরূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন কে?
8.
ভাষার কোন রীতি তদ্ভব শব্দ বহুল?
- সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎপন্ন ভাষাকে সাধু ভাষা হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে চলিত ভাষা বলে।
- সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য হলো: সাধু রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল কিন্তু চলিত রীতি তদ্ভব শব্দবহুল ও পরিবর্তনশীল।
- সাধু রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে। অপরদিকে, চলিত রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।
- সাধু রীতিতে সর্বনাম, ক্রিয়া ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহার করা হয়। অপরদিকে, চলিত রীতিতে সর্বনাম, ক্রিয়া ও অনুসর্গের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করা হয়।
- যেমন: অতঃপর তাহারা চলিয়া গেল (সাধু)। তারপর তারা চলে গেল (চলিত)।
9. 'প্রমিত বাংলা ভাষা' বলতে বোঝায়-
10.
প্রমথ চৌধুরীর 'বীরবলী' রীতির প্রচার মাধ্যম হিসাবে কোন পত্রিকা ভূমিকা রাখে?
প্রমথ চৌধুরীর ‘বীরবলী’ রীতির প্রচারমাধ্যম হিসাবে ভূমিকা রাখে সবুজপত্র পত্রিকা।