টপিকঃ বাংলা ভাষারীতি

বিষয়

বাংলা ব্যাকরণ

Free: 10 Qs

1.

বাঙালি উপভাষা অঞ্চল কোনটি?

ক) নদীয়া
খ) পুরুলিয়া
গ) ত্রিপুরা
ঘ) বরিশাল
Note :

বঙ্গালী উপভাষা প্রধানত পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় প্রচলিত। বাংলাদেশের বরিশাল, ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লাসিলেটের কিছু অংশ এবং ভারতের ত্রিপুরাআসামের বরাক উপত্যকায় এই উপভাষার বিস্তার রয়েছে ।

2.

বাংলা অক্ষরের প্রথম নক্শা তৈরি করেন-

ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গ) উইলিয়াম কেরী
ঘ) চার্লস উইলকিন্স
Note :

বাংলা অক্ষরের প্রথম নকশা তৈরি করেন ইংরেজ প্রাচ্যবিদ ও টাইপোগ্রাফার চার্লস উইলকিন্স (Charles Wilkins)। ১৭৭৮ সালে তিনি হুগলির চুঁচুড়ায় প্রথম বাংলা ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিজেই বাংলা হরফের প্রথম নকশা তৈরি করেন।

3.

কোন ভাষারীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত এবং সুনির্দিষ্ট?

ক) চলিত ভাষা
খ) লেখ্য ভাষা
গ) কথ্য ভাষা
ঘ) সাধু ভাষা
Note :

বাংলা ভাষার সাধু রীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট। এটি কঠোর ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে এবং এর কাঠামো সাধারণত অপরিবর্তনীয়  সাধু ভাষার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

ব্যাকরণসিদ্ধ: এটি সুনির্দিষ্ট ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে।

ক্রিয়া ও সর্বনামের পূর্ণরূপ: এতে ক্রিয়া (যেমন: করিতেছি) এবং সর্বনাম (যেমন: তাহারা) পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

তৎসম শব্দের প্রাচুর্য: এতে সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি থাকে। 

4.

ভাষার কোন রীতি তদ্ভব শব্দ বহুল?

ক) সাধু রীতি
খ) কথ্য রীতি
গ) চলিত রীতি
ঘ) বানান রীতি
Note :

- সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎপন্ন ভাষাকে সাধু ভাষা হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে চলিত ভাষা বলে।
- সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য হলো: সাধু রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল কিন্তু চলিত রীতি তদ্ভব শব্দবহুল ও পরিবর্তনশীল।
- সাধু রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে। অপরদিকে, চলিত রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।
- সাধু রীতিতে সর্বনাম, ক্রিয়া ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহার করা হয়। অপরদিকে, চলিত রীতিতে সর্বনাম, ক্রিয়া ও অনুসর্গের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করা হয়।
- যেমন: অতঃপর তাহারা চলিয়া গেল (সাধু)। তারপর তারা চলে গেল (চলিত)।

5.

বাংলা কথ্য ভাষার আদি গ্রন্থ কোনটি?

ক) প্রভু যিশুর বাণী
খ) ফুলমণি ও করুণার বিবরণ
গ) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
ঘ) মিশনারি জীবন
Note :

কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ  বাংলা ভাষার আদি গদ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে একটি। এই গ্রন্থের লেখক পাদ্রি মানোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ (পর্তুগিজ: Manoel da Assumpçam মানোয়েল্‌ দা আসুঁসাঁউ)। গ্রন্থটির নাম বাংলা অক্ষরে কখনো 'কৃপার' স্থলে 'ক্রেপার' লেখা হয়েছে। অধিকন্তু প্রায়শ: 'অর্থ ভেদ' দুই শব্দের পরিবর্তে 'অর্থভেদ' এক শব্দ ব্যবহৃত হয়। এটি বাংলা আদি গদ্যের নমুনা হলেও গ্রন্থটি রোমান হরফে মুদ্রিত হয়।

6.

কোন শাসনামলে বাংলা লিপি স্থায়ী রূপ লাভ করে?

ক) গুপ্ত যুগ
খ) পাঠান যুগ
গ) পাল যুগ
ঘ) মোগল যুগ
Note :

পাঠান যুগে বাংলা লিপি মোটামুটি স্থায়ী রূপ লাভ করে।

7.

সাধু ভাষা ও চলিত ভাষার পার্থক্য-

ক) তৎসম ও তদ্ভব শব্দের ব্যবহার
খ) ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের রূপে
গ) শব্দের কথা ও লেখ্য রূপে
ঘ) বাক্যের সরলতা ও জটিলতায়
Note :

সাধু ভাষা: বাংলা ভাষায় সংস্কৃত শব্দ সম্পদ, ক্রিয়া ও সর্বনামের পূর্ণরূপ এবং কিছু ব্যাকরণসিদ্ধ উপাদান ব্যবহার করে ইংরেজি গদ্য সাহিত্যের পদবিন্যাস প্রণালির অনুকরণে পরিকল্পিত যে নতুন সর্বজনীন গদ্যরীতি বাংলা সাহিত্যে প্রবর্তিত হয়, তাকে সাধু ভাষা বলে।

 

চলিত ভাষা: তদ্ভব শব্দ, ক্রিয়া ও সর্বনামের সংক্ষিপ্ত রূপ এবং লেখকের মনোভাব অনুযায়ী পদবিন্যাস প্রণালির ব্যবহারসহ যে স্বচ্ছন্দ, চটুল ও সর্বজনীন সাহিত্যিক গদ্যরীতি মুখের ভাষার আদলে গড়ে উঠেছে, তার নাম চলিত ভাষা।

8.

'তৎসম' শব্দের ব্যবহার কোন রীতিতে বেশি হয়?

ক) চলিত রীতি
খ) মিশ্র রীতি
গ) সাধু রীতি
ঘ) আঞ্চলিক রীতি
Note :

'তৎসম' শব্দের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয় সাধু রীতিতে। তৎসম (সংস্কৃত থেকে আগত) শব্দগুলো সাধারণত গুরুগম্ভীর হয়, যা সাধু ভাষারীতিকে সমৃদ্ধ ও সুশৃঙ্খল করে

9.

বাংলা সাহিত্যে কথ্যরীতির প্রচলনে কোন পত্রিকার অবদান বেশি?

ক) কল্লোল
খ) বঙ্গদর্শন
গ) সবুজপত্র
ঘ) কালিকলম
Note :

প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে ‘সবুজপর’ পরিকাটি প্রকাশিত হয় । বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এ পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম । কেননা এর মাধ্যমে সাধু গদ্যরীতির পরিবর্তে চলিত গদ্যরীতির ব্যবহার প্রতিষ্ঠিত হয়।

10.

বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক কে?

ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
খ) প্রমথ চৌধুরী
গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
ঘ) প্রমথনাথ বসু
Note :

বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তন করেন - প্রমথ চৌধুরী। প্রমথ চৌধুরী বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রাবন্ধিক, কবি ও লেখক। তিনি বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক। তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্মক প্রবন্ধ রচনা করেন। তিনি "সবুজপত্র " পত্রিকা সম্পাদনের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তন করেন।

You've reached the free limit!

You can only see 10 questions with free access.

Login to upgrade