টপিকঃ বাংলা ব্যাকরণ
1.
প্রমথ চৌধুরীর 'বীরবলী' রীতির প্রচার মাধ্যম হিসাবে কোন পত্রিকা ভূমিকা রাখে?
প্রমথ চৌধুরীর ‘বীরবলী’ রীতির প্রচারমাধ্যম হিসাবে ভূমিকা রাখে সবুজপত্র পত্রিকা।
2.
ক্রিয়া , সর্বনাম ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়-
সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎপন্ন ভাষাকে সাধু ভাষা হিসেবে অভিহিত করা হয় । সাধুরীতি ব্যাকরণের নির্দিষ্ট ইয়ম অনুসরণ করে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত । এ রীতিতে সর্বনাম, ক্রিয়া ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহার করা হয় । যেমনঃ আসিয়া (সাধু) > এসে (চলিত); তাহাকে (সাধু) > তাকে (চলিত); অপেক্ষা(সাধু) > চেয়ে (চলিত) ।
3.
ব্যাকরণ ও ভাষার মধ্যে কোনটি আগে সৃষ্টি হয়েছে?
মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম ভাষা।
- মানুষের মুখে উচ্চারিত অর্থবোধক ও মনোভাব প্রকাশক ধ্বনিসমষ্টিকে ভাষা বলে।
- ভাষার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা আবিষ্কারের নামই ব্যাকরণ ।
- সুতরাং, আগে ভাষা সৃষ্টি হয়েছে; তারপর ভাষাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করার জন্য ব্যাকরণ সৃষ্টি হয়েছে।
4.
বেদের ভাষাকে কি ভাষা বলা হয়?
বৈদিক ভাষা ভারতে আগত আর্য জাতির আদি ভাষা। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ অব্দের দিকে আর্যরা ভারতবর্ষে আসা শুরু করেছিল। উত্তর - পশ্চিম ভারত দিয়ে আগত এই জনগোষ্ঠী খ্রিষ্টপূর্ব ১১০০ অব্দের দিকে বঙ্গদেশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। খ্রিষ্ট - পূর্ব ১০০০ বৎসরের ভিতরে ভারতীয় ইন্দো - ইরানিয়ান ভাষার পরিবর্তন ঘটে।
5.
বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে নিম্নোক্ত একটি ভাষা থেকে-
মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি ঘটেছে এ মতবাদ দিয়েছেন স্যার জর্জ গ্রিয়ার্সন। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এ মত সমর্থন করেছেন। কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ভিন্ন মত পোষণ করে বলেন- গৌড়ীয় প্রাকৃত হতে বাংলা ভাষার উদ্ভব।
বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে এককথায় - "ইন্দো ইউরোপীয় →শতম →ইন্দো আর্য →ভারতীয় →প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা →প্রাচীন কথ্য ভারতীয় আর্যভাষা →গৌড়ী প্রাকৃত →গৌড় অপভ্রংশ →বঙ্গ-কামরূপী →বাংলা ও অসমীয়া।"
6.
'Syntax' এর সমার্থক বাংলা প্রতিশব্দ হল?
Syntax - বাক্যতত্ত্ব।
Phonology - ধ্বনিতত্ত্ব।
Morphology - শব্দতত্ত্ব[।
Semantics - অর্থতত্ত্ব।
7.
বাংলা ব্যাকরণের মূল আলোচ্য বিষয় কয়টি?
বাংলা ব্যাকরণের মূল আলোচ্য বিষয় চারটি।
এই চারটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো:
ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology): এতে ধ্বনির উচ্চারণ, বিন্যাস এবং পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology): এতে শব্দ গঠন, শব্দের প্রকারভেদ, প্রত্যয়, উপসর্গ, সমাস, কারক ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax): এতে বাক্যের গঠন, পদের বিন্যাস এবং বাক্য গঠনের নিয়মাবলী নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অর্থতত্ত্ব (Semantics): এতে শব্দের অর্থ, বাক্যের অর্থ এবং অর্থের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
8.
কে সর্বপ্রথম বাংলা টাইপ সহযোগে বাংলা ব্যাকরণ মুদ্রণ করেন?
নাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড (Nathaniel Brassey Halhed) সর্বপ্রথম বাংলা টাইপ সহযোগে বাংলা ব্যাকরণ মুদ্রণ করেন। তিনি ১৭৭৮ সালে ইংরেজিতে ‘A Grammar of the Bengal Language’ নামে গ্রন্থটি রচনা ও প্রকাশ করেন। এই গ্রন্থে ব্যবহৃত প্রথম বাংলা টাইপগুলো তৈরি করেছিলেন চার্লস উইলকিনস
9.
চলিত ভাষায় নিম্নের কোনটির রূপ সংক্ষিপ্ত হয়?
চলিত ভাষায় অনুসর্গ, সর্বনাম এবং ক্রিয়াপদের রূপ সংক্ষিপ্ত হয়
10.
'প্রমিত বাংলা ভাষা' বলতে বোঝায়-
'প্রমিত বাংলা ভাষা' বলতে মূলত সর্বজনগ্রাহ্য ও আদর্শ চলিত রীতির বাংলা ভাষাকে বোঝায়। এটি আঞ্চলিকতার ঊর্ধ্বে উঠে নির্দিষ্ট ব্যাকরণ ও বানান মেনে চলে। শিক্ষা, প্রশাসন, গণমাধ্যমসহ সকল আনুষ্ঠানিক কাজে এই মান্য বা প্রমিত রূপটি ব্যবহৃত হয়
11.
সবুজপত্র বাংলা ভাষা ও সাহিেত্য কী হিসেবে পরিচিত?
সবুজপত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য সাহিত্য পত্রিকা। বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান সাময়িক পত্রিকা ছিল সবুজপত্র । এটি প্রকাশিত হত প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায়। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩২১ বঙ্গাব্দে এবং ইংরেজি ১৯১৪ সালে। সবুজপত্রে কখনো কোন বিজ্ঞাপন বা ছবি প্রকাশিত হয় নি।
12.
বাঙালির লেখা প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ'-এর রচয়িতা কে?
বাঙালির লেখা প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ'-এর রচয়িতা হলেন একজন ধর্মান্তরিত বাঙালি খ্রিস্টান, দোম আন্তোনিও দো-রোজারিও।
13.
'সবুজপত্র' বাংলা সাহিত্যে কোন ভাষারীতি প্রবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে?
সঠিক উত্তর চলিত ভাষা
প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনার ১৯১৪ সালে মাসিক ‘সবুজপত্র’ প্রকাশিত হয়। সাধু গদ্যরীতির পরিবর্তে চলিত গদ্যরীতি প্রচলনের মাধ্যমে বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম। সাহিত্যজগতে এই পত্রিকা ‘সবুজপত্র গোষ্ঠী’ তৈরি করে।
14.
সাধু ভাষা ও চলিত ভাষার পার্থক্য-
সাধু ভাষা: বাংলা ভাষায় সংস্কৃত শব্দ সম্পদ, ক্রিয়া ও সর্বনামের পূর্ণরূপ এবং কিছু ব্যাকরণসিদ্ধ উপাদান ব্যবহার করে ইংরেজি গদ্য সাহিত্যের পদবিন্যাস প্রণালির অনুকরণে পরিকল্পিত যে নতুন সর্বজনীন গদ্যরীতি বাংলা সাহিত্যে প্রবর্তিত হয়, তাকে সাধু ভাষা বলে।
চলিত ভাষা: তদ্ভব শব্দ, ক্রিয়া ও সর্বনামের সংক্ষিপ্ত রূপ এবং লেখকের মনোভাব অনুযায়ী পদবিন্যাস প্রণালির ব্যবহারসহ যে স্বচ্ছন্দ, চটুল ও সর্বজনীন সাহিত্যিক গদ্যরীতি মুখের ভাষার আদলে গড়ে উঠেছে, তার নাম চলিত ভাষা।
15.
বাংলা ব্যাকরণে রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
প্রত্যয় বাংলা ব্যাকরণে রূপতত্ত্বের (বা শব্দতত্ত্বের) প্রধান আলোচ্য বিষয়।
16.
সাধু ও চলিত রীতিতে অভিন্নরূপে ব্যবহৃত হয়-
অব্যয় পদ (যেমন এবং ও কিন্তু সুতরাং) এমন শব্দ যার কোনো রূপ পরিবর্তন হয় না। তাই এটি সাধু ও চলিত উভয় রীতিতেই অভিন্ন থাকে। অন্যদিকে ক্রিয়াপদ (যেমন- করিয়া/করে) এবং সর্বনাম পদ (যেমন- তাহার/তার) এর রূপ পরিবর্তিত হয়। তাই সঠিক উত্তরটি হলো অব্যয়।
17.
শব্দ কি দিয়ে তৈরি হয়?
শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশ হলো ধ্বনি। ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ, যেমন: ক+ল+ম = কলম।
18.
রূপতত্ত্বের অপর নাম কি?
ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় চারটি।
১) ধ্বনিতত্ত্ব বা phonology
২) শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব বাmorphology
৩) বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম বা syntax
৪) অর্থতত্ত্ব বা semantics
19.
বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের আঞ্চলিক কথ্য রীতি/উপভাষার নাম কী ?
বাংলাদেশের দক্ষিণ ও মধ্য অঞ্চলে প্রচলিত আঞ্চলিক কথ্য রীতি বা উপভাষাকে প্রধানত "বাঙ্গালি" উপভাষা বলা হয়। এছাড়া, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের (যেমন- সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন এলাকা) উপভাষাকে অনেক সময় "সুন্দরবানী" এবং বৃহত্তর দক্ষিণের পূর্বাংশে (যেমন- নোয়াখালী ও এর আশেপাশের অঞ্চল) "নোয়াখাইল্লা" বা নোয়াখালীয় উপভাষা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
20.
'Phonology' শব্দের অর্থ কী?
Phonology (ফোনোলজি) শব্দের বাংলা অর্থ হলো "ধ্বনিতত্ত্ব" বা "ধ্বনিবিজ্ঞান"। এটি ভাষাবিজ্ঞানের একটি প্রধান শাখা।
21.
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচনা করেন-
ভারতীয় উপমহাদেশে খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে গাজীপুরের ভাওয়াল গড়ে অবস্থানকালে পর্তুগিজ ক্যাথলিক পাদ্রী মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ রোমান হরফে পর্তুগিজ ভাষায় ‘Vocabulario Em Idioma Bengalla, E Portuguez. -Dividido Em Duas Partes' গ্রন্থটি রচনা করেন, যা বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।
-এটি ১৭৪৩ সালে লিসবন থেকে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি মূলত একটি অভিধান।
-বাংলাভাষী জনগণের মধ্যে খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারের সুবিধার্থে তিনি পর্তুগিজ ভাষায় রোমান হরফে ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' (১৭৪৩) রচনা করেন, যা বাংলা কথ্যভাষার আদি গদ্যগ্রন্থ হিসেবে পরিচিত।
-রাজা রামমোহন রায় রচিত 'Bengali Grammar in English Language' ১৮২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
-এটি পরবর্তীতে ১৮৩৩ সালে তিনি ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ নামে অনূদিত করেন, যা বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত।
-নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচিত বাংলা ভাষার দ্বিতীয় ব্যাকরণ গ্রন্থ ‘A Grammar of the Bengal Language', যা ১৭৭৮ সালে ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে চার্লস উইলকিনসের হুগলির মুদ্রণযন্ত্র থেকে গ্রন্থটির অংশবিশেষ বাংলায় মুদ্রিত হয়।
-রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদী রচিত ব্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থ ‘শব্দকথা’ (১৯১৭) ।
22.
চলিত ভাষারীতির প্রথম মুখপত্র কোনটি?
বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষারীতির প্রথম মুখপত্র হলো সবুজপত্র。 প্রখ্যাত সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে (১৩২১ বঙ্গাব্দ) পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়。 এর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে সাধু ভাষার বদলে চলিত গদ্যরীতির সার্থক প্রবর্তন ঘটে
23.
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রচলিত উপভাষার নাম কি?
রাঢ়ী (নদিয়া, হুগলি, বর্ধমান জেলা সহ দক্ষিণবঙ্গ), বরেন্দ্রী (মালদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, রাজশাহী সহ উত্তর - পশ্চিম বাংলা), ঝাড়খণ্ডী (বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম সহ ঝাড়খন্ডের কিছু অংশ ), মেদিনীপুরী বাংলা ভাষা (পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কাকদ্বীপ মহকুমা),
24.
কথ্যরীতি সমন্বয়ে শিষ্টজনের ব্যবহৃত ভাষাকে কী বলে?
কথ্যরীতি সমন্বয়ে শিষ্ট বা শিক্ষিতজনের ব্যবহৃত ভাষাকে আদর্শ চলিত ভাষা বা মান্য চলিত ভাষা বলে। এটিই বর্তমানে বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য ও মানদণ্ড লিখিত রূপ।
25.
“যে শাস্ত্র জানিলে বাঙ্গালা ভাষা শুদ্ধরূপে লিখিতে, পড়িতে ও বলিতে পারা যায়, তাহার নাম বাঙ্গালা ব্যাকরণ।” এ সংজ্ঞাটি কার?
সঠিক উত্তর: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
“যে শাস্ত্র জানিলে বাঙ্গালা ভাষা শুদ্ধরূপে লিখিতে, পড়িতে ও বলিতে পারা যায়, তাহার নাম বাঙ্গালা ব্যাকরণ”—এই সংজ্ঞাটি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ দিয়েছেন।
26.
বাক্যতত্ত্বের অপর নাম কি?
ব্যাকরণের প্রধান ও মৌলিক আলোচ্য বিষয় চারটি ।যথা - ধ্বনিতত্ত্ব , শব্দতত্ত্ব , বাক্যতত্ত্ব ও অর্থতত্ত্ব । বাক্যতত্ত্বের অপর নাম পদক্রম ।
27.
বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ হলো পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আস্সুম্পসাঁউ রচিত 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ'। এটি ১৭৪৩ সালে পর্তুগালের লিসবন থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়। তবে এটি বাংলা হরফে না লিখে রোমান হরফে ছাপা হয়েছিল।
28.
'তৎসম' শব্দের ব্যবহার কোন রীতিতে বেশি হয়?
'তৎসম' শব্দের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয় সাধু রীতিতে। তৎসম (সংস্কৃত থেকে আগত) শব্দগুলো সাধারণত গুরুগম্ভীর হয়, যা সাধু ভাষারীতিকে সমৃদ্ধ ও সুশৃঙ্খল করে
29.
ব্যাকরণের কোন অংশে 'কারক' সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়?
একাধিক শব্দ কী নিয়মে যুক্ত হয়ে বৃহত্তর এককসমূহ (যাদের মধ্যে বাক্য প্রধানতম একক) গঠন করে এবং এই বৃহত্তর এককগুলোর বৈশিষ্ট্য কী, সেটাই বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। মূল কথা, ধ্বনিতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্বকে বাক্যে যথাযথভাবে ব্যবহার করার বিধানের নামই বাক্যতত্ত্ব।
এর আলচ্য বিষয় ঃ যতিচিহ্ন, বাগধারা, কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, পদক্রম, বাচ্য, উক্তি ও বাক্য সংক্রান্ত সকল বিষয়, পদের রূপ পরিবর্তন, বাক্যতত্ত্ব।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)
30.
বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়-
বাংলা ভাষার উদ্ভব হয় সপ্তম খ্রিষ্টাব্দে। বাংলা ভাষা বিকাশের ইতিহাস ১৩০০ বছর পুরোনো।ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে: উদ্ভবকাল ১০ম শতাব্দী (৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ), সেই হিসেবে বয়স প্রায় ১০০০ বছর। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে: উদ্ভবকাল ৭ম শতাব্দী (৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ), সেই হিসেবে বয়স ১৩৫০ বছরের বেশি বা প্রায় ১৪০০ বছর। চর্যাপদ এ ভাষার আদি নিদর্শন। মধ্যভারতীয় আর্য ভাষাকে প্রাকৃত ভাষা বলে। প্রাকৃত ভাষার একটি শাখা হচ্ছে মাগধী ভাষা। মাগধী ভাষার পরের রূপ হচ্ছে মাগধী অবহট্ঠ বা অবহট্ট । আর এ ভাষা থেকে ৭ম খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।
31.
ভাষার কোন রীতি কেবলমাত্র লেখ্যরূপে ব্যবহৃত হয়?
বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত লেখ্য রূপ হচ্ছে সাধু রীতি। এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল। এ রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতায় অনুপযোগী।
32.
'Dialect' এর পরিভাষা-
Dialect' এর পরিভাষা হলো উপভাষা। এটি মূলত কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের মানুষের কথ্য রূপ, যা শব্দভাণ্ডার, ব্যাকরণ এবং উচ্চারণের দিক থেকে প্রমিত বা আদর্শ ভাষা থেকে আলাদা হয়
33.
Vocabulario em idioma Bengalla, e Portuguez dividido em duas partes বইটি মুদ্রিত হয় কোন হরফে?
পর্তুগিজ ধর্মযাজক মানোএল দ্য আসসুম্পসাঁউ রচিত"Vocabulario em idioma Bengalla, e Portuguez dividido em duas partes" বইটি ১৭৪৩ সালে পর্তুগালের লিসবন শহর থেকে সম্পূর্ণ রোমান হরফে মুদ্রিত হয়েছিল l বইটি পর্তুগিজ মিশনারিদের বাংলা ভাষা শেখানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। মজার বিষয় হলো, এতে বাংলার নিজস্ব লিপির পরিবর্তে রোমান হরফ ব্যবহার করেই বাংলা শব্দ ও ব্যাকরণ লেখা হয়েছিল, কারণ তখনো বাংলায় মুদ্রণযন্ত্র বা ছাপার অক্ষরের প্রচলন হয়নি।
34.
বাংলা মুদ্রাক্ষরের জনক বলা হয় কাকে?
ওয়ারেন হেস্টিংস এর অনুরোধে নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড বাংলা ব্যাকরণের বই লিখার পর ছাপার যন্ত্র বা বাংলা মুদ্রণ হরফ না থাকায় হেস্টিংস তাঁর অধীনস্থ কর্মচারী চার্লস উইলকিন্সকে হরফ তৈরির নির্দেশ দেন ।উইলকিন্স পরে পঞ্চানন কর্মকারের সহায়তায় বাংলা মুদ্রণ হরফ তৈরি করেন।
- ১৭৭৮ সালে তিনি হুগলিতে প্রথম বাংলা ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত করেন এবং নিজেই বাংলা অক্ষরের নকশা তৈরি করেন বলে তাঁকে বাংলা মুদ্রাক্ষরের জনক বলা হয় ।
- তবে উপমহাদেশের প্রথম ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয় (পর্তুগিজ ভাষার মুদ্রণযন্ত্র) ১৪৯৮ সালে।
- বাংলাদেশের প্রথম ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয় রংপুরে ১৮৪৭ সালে । এর নাম 'বার্ত্তাবহ যন্ত্র' । ছাপাখানাটি থেকে প্রকাশিত হতো রংপুরের প্রথম সাময়িকপত্র 'রঙ্গপুর বার্ত্তাবহ' । পত্রিকাটির প্রকাশক ছিলেন শুরুচরণ রায় ।
- ঢাকায় ১৮৬০ সালে ‘ঢাকা প্রেস’ নামে ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ছাপাখানা থেকে দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীল দর্পণ’ প্রকাশিত হয়।
35.
আলালী বা হুতোমী ভাষা বলা হয় কোন ভাষাকে?
আলালী বা হুতোমি ভাষা মূলত চলিত ভাষা-কে বলা হয়। বাংলা গদ্যের সূচনা পর্বে মুখের ভাষারীতি বা চলিত রীতির প্রবর্তনে এই দুটি শৈলী বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল।
প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
আলালী ভাষা: প্যারীচাঁদ মিত্র তাঁর 'আলালের ঘরের দুলাল' গ্রন্থে এই ভাষারীতি ব্যবহার করেন, যা তৎসম শব্দের মিশ্রণে কিছুটা সহজ ও কথ্য রূপ ধারণ করেছিল।
হুতোমি ভাষা: কালীপ্রসন্ন সিংহ তাঁর 'হুতোম প্যাঁচার নকশা'-তে এই রীতির প্রয়োগ করেন, যা আলালী ভাষার চেয়ে আরও বেশি প্রাণবন্ত, তীব্র ও সরাসরি কথ্য মুখের ভাষার কাছাকাছি ছিল।
36.
বাঙালি উপভাষা অঞ্চল কোনটি?
বঙ্গালী উপভাষা প্রধানত পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় প্রচলিত। বাংলাদেশের বরিশাল, ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেটের কিছু অংশ এবং ভারতের ত্রিপুরা ও আসামের বরাক উপত্যকায় এই উপভাষার বিস্তার রয়েছে ।
37.
বচন, লিঙ্গ, পুরুষ ইত্যাদি আলোচিত হয়-
বচন, লিঙ্গ, শব্দ, দ্বিরুক্ত শব্দ বা শব্দদ্বৈত, পারিভাষিক শব্দ, পদাশ্রিত নির্দেশক, সমাস, প্রত্যয়, উপসর্গ ও অনুসর্গ, ধাতু, পদ, অনুজ্ঞা, ক্রিয়াকাল, ক্রিয়ামূল, পুরুষ প্রভৃতি শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
38.
দেশ-কাল ও পরিবেশভেদে কিসের পার্থক্য ঘটে?
মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত বাক সংকেতের সংগঠন কে ভাষা বলা হয়। অর্থাৎ বাগযন্ত্রের দ্বারা সৃষ্ট অর্থবোধক ধ্বনির সংকেতের সাহায্যে মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যমই হলো ভাষা। দেশ, কাল ও পরিবেশভেদে ভাষার পরিবর্তন ঘটে। এইজন্য বিভিন্ন দেশের মানুষ বিভিন্ন ভাষায় কথা বলে। কোন দেশের ভাষা বাংলা, কোন দেশের ইংরেজি ইত্যাদি।
39.
উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদ কে ছিলেন?
উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদ ছিলেন প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত পণ্ডিত পাণিনি। তিনি 'ভাষাবিজ্ঞানের জনক' হিসেবেও পরিচিত। পাণিনি সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য তথ্য: আবির্ভাব: আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ থেকে ৪র্থ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে তিনি প্রাচীন ভারতে (বর্তমান পাকিস্তানের সিন্ধু নদ সংলগ্ন এলাকায়) জন্মগ্রহণ করেন। সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ: তাঁর রচিত কালজয়ী সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম 'অষ্টাধ্যায়ী'। কর্মপদ্ধতি: এতে সংস্কৃত ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব এবং বাক্যতত্ত্বের প্রায় ৩,৯৫৯টি নিয়ম অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক উপায়ে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। গভীর প্রভাব: তাঁর এই ব্যাকরণ কাঠামো আধুনিক ভাষাবিজ্ঞান ও এমনকি কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের ভিত্তি নির্মাণে গভীর অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে
40.
প্রত্যেক ভাষারই তিনটি মৌলিক অংশ হলো-
প্রতিটি ভাষারই কতগুলো মৌলিক অংশ থাকে,তন্মধ্যে ধ্বনি, শব্দ,বাক্য অন্যতম। মানুষের কণ্ঠ নিঃসৃত বাক সংকেতের সংগঠনকে ধ্বনি বলে। আর ধ্বনিকে লিখে প্রকাশ করার জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাকে বর্ণ বলে। এক বা একাধিক বর্ণ বা ধ্বনি একত্রিত হয়ে যখন কোনো নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে শব্দ বলে। মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত অর্থপূর্ণ বাক্যসমষ্টি যখন মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন তাকে ভাষা বলে। এইজন্য যে কোন ভাষার জন্য ধ্বনি, শব্দ,বাক্য গুরুত্বপূর্ণ।
41.
কোনটি ভাষাবংশের নাম নয়?
হিস্পানি কোনো ভাষাবংশ বা ভাষা পরিবারের নাম নয়। এটি মূলত স্পেনের প্রধান ভাষা স্পেনীয় (Spanish)-এর অপর একটি নাম বা বিশেষণ।
42.
ভাষা চিন্তার শুধু বাহনই নয় , চিন্তার প্রসূতিও।' মন্তব্যটি কোন ভাষা-চিন্তকের?
বাগযন্ত্র বা বাকপ্রত্যঙ্গ দ্বারা উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনির সাহায্যে মানুষের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে।
-ভাষা ভাবের বাহন।
-ভাষা সম্পর্কে ভাষা-চিন্তক ড. সুকুমার সেন ‘ভাষার ইতিবৃত্ত' গ্রন্থে বলেন, ‘ভাষার মধ্য দিয়া আদিম মানুষের সামাজিক প্রবৃত্তির প্রথম অঙ্কুর প্রকাশ পাইয়াছিল। ভাষার মধ্য দিয়াই সেই সামাজিক প্রবৃত্তি নানাদিকে নানাভাবে প্রসারিত হইয়া আদিম নরকে পশুত্বের অন্ধজড়তা হইতে উদ্ধার করিয়া তাহাকে মননশীল করিয়াছে। ভাষা চিন্তার শুধু বাহনই নয়, চিন্তার প্রসূতিও।
-তাঁর রচিত ‘ভাষার ইতিবৃত্ত’ বাংলা ভাষাতত্ত্বের একটি পূর্ণাঙ্গ আলোচনা গ্রন্থ।
-সুকুমার সেন রচিত অন্যান্য গ্রন্থ: ‘বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস’, ‘বঙ্গভূমিকা’, ‘বাঙ্গালা সাহিত্যের কথা’, ‘বাঙ্গালা সাহিত্যে গদ্য', 'দিনের পরে দিন যে গেল' (আত্মজীবনী)।
-ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত ভাষা বিষয়ক গ্রন্থ ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’ (১৯৬৫)
-সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত ভাষা বিষয়ক গ্রন্থ The Origin and Development of the Bengali Language ( ODBL);
-মুহম্মদ এনামুল হক রচিত গ্রন্থ ‘ব্যাকরণ মঞ্জরী' (১৯৫২)।
43.
বাংলা অক্ষরের প্রথম নক্শা তৈরি করেন-
বাংলা অক্ষরের প্রথম নকশা তৈরি করেন ইংরেজ প্রাচ্যবিদ ও টাইপোগ্রাফার চার্লস উইলকিন্স (Charles Wilkins)। ১৭৭৮ সালে তিনি হুগলির চুঁচুড়ায় প্রথম বাংলা ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিজেই বাংলা হরফের প্রথম নকশা তৈরি করেন।
44.
'লিপি' শব্দের অর্থ কী?
'লিপি' শব্দের অর্থ হলো লেখা বা অক্ষর। তবে ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক দিক থেকে এর আরও সুনির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে।
45.
প্রথম কোন বাঙালি বাংলা ভাষায় ব্যাকরণ রচনা করেন?
১৮২৬ সালে রাজা রামমোহন রায় ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন। এরপর তিনি স্কুল বুক সোসাইটির জন্য ঐ গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করে নাম দেন 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ ' যা প্রকাশ হয় ১৮৩৩ সালে। আর এ গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ।
46.
'সন্ধি' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
'সন্ধি' ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্বের (Phonology) আলোচ্য বিষয়। সন্ধির মূল উদ্দেশ্য হলো উচ্চারণকে সহজ ও শ্রুতিমধুর করা । বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনি বা বর্ণের উচ্চারণ এবং তাদের মিলন বা পরিবর্তনের নিয়মগুলো ধ্বনিতত্ত্বের অধীনে আলোচনা করা হয়।
47.
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে রচিত হয়?
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণের রচনাস্থল হিসেবে গাজীপুর সঠিক উত্তর। বাংলা ভাষার ব্যাকরণকে রচিত করার ক্ষেত্রে গাজীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে বাংলার ভাষাগত ও সাহিত্যিক গবেষণা শুরু হয়, যা পরবর্তীকালে বাংলা ভাষার উন্নয়নে সহায়ক হয়।
48.
বাংলা ভাষার রীতি কয়টি?
বাংলা ভাষারীতির রুপ দুটি। সাধু ভাষা রীতি ও চলিত ভাষা রীতি। যে ভাষা সুনির্ধারিত ব্যাকরণ অনুসরণ করে চলে সটি সাধু ভাষা রীতি। আর চলিত ভাষা রীতি পরিবর্তনশীল।
49.
কোনটি ভাষার বৈশিষ্ট্য নয়?
ভাষার মূল উপাদান ধ্বনি। ধ্বনির সাহায্যে ভাষার সৃষ্টি হয়। আবার ধ্বনি সৃষ্টি হয় বাগযন্ত্রের দ্বারা। মানুষের কণ্ঠ নিঃসৃত বাক সংকেতের সংগঠন কে ভাষা বলে। গলনালি, মুখবিবর, জিহ্বা, তালু ,দাঁত, নাক ইত্যাদি বাক প্রত্যঙ্গকে বাকযন্ত্র বলে। ইশারা বা অঙ্গভঙ্গির সাহাযে মনের ভাব সম্পূর্ণ রূপে প্রকাশ পায় না। তাই এটি ভাষার অন্তর্ভুক্ত নয়।
50.
বাংলা ভাষায় ব্যাকরণ কে লিখেন?
রাজা রামমোহন রায় বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লিখেছেন। তিনি ১৮৩৩ সালে "গৌড়ীয় ব্যাকরণ" নামক পূর্ণাঙ্গ বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থটি রচনা করেন, যা ছিল কোনো বাঙালি কর্তৃক বাংলায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ।