টপিকঃ বাংলা ব্যাকরণ
1.
ব্যাকরণ ভাষাকে কি নির্দেশ করে?
ভাষাকে বর্ণনা করে।
2.
বাংলা ভাষায় ব্যাকরণ কে লিখেন?
রাজা রামমোহন রায় বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লিখেছেন। তিনি ১৮৩৩ সালে "গৌড়ীয় ব্যাকরণ" নামক পূর্ণাঙ্গ বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থটি রচনা করেন, যা ছিল কোনো বাঙালি কর্তৃক বাংলায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ।
3.
ভাষার অভ্যন্তরীণ নিয়ম শৃঙ্খলার আবিষ্কারের নামই-
ভাষার অভ্যন্তরীণ নিয়ম শৃঙ্খলার আবিষ্কারের নামই - - - - ব্যাকরণ।
ভাষাবিজ্ঞান বা শাস্ত্রে হলো ব্যাকরণ । ব্যাকরণ শব্দটির বুৎপত্তিগত অর্থ হলো " বিশ্লেষণ"( বি + আ + ক্রি + অন) বিশেষ এবং সম্যকরূপে বিশ্লেষণ। যে শাস্ত্র পাঠ করলে শুদ্ধভাবে ভাষা লিখতে পড়তে ও বলতে পারা যায় তাকে ব্যাকরণ বলে।
ভাষার সংজ্ঞা প্রসঙ্গে নানান সাহিত্যিক নানান মতামত লক্ষ্য করা যায় তবে যে সমস্ত মতামতগুলি গ্রহণযোগ্য তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল -
ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে যে শাস্ত্রে কোন ভাষাকে বিশ্লেষণ করে তার স্বরূপ আকৃতি ও প্রয়োগের নীতি বুঝিয়ে দেওয়া হয়' সেই শাস্থ্যকে বলে সেই ভাষার ব্যাকরণ ।
4.
কোন শব্দে বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
বিভিন্ন বিদেশি ভাষার সঙ্গে সঙ্গে সে সব ভাষার কিছু কিছু উপসর্গও বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে। এই সব বিদেশি ভাষার উপসর্গগুলোই বিদেশি উপসর্গ।
- বাংলা ভাষায় বহু বিদেশি উপসর্গ রয়েছে। যেমন—বে, বর, বদ, ফি, গর, নিম, দর, কাম ইত্যাদি।
- প্রয়োগ: বে—বেয়াদব, বেসামাল। বদ—বদলোক, বদনাম।
- বাংলা ভাষায় বিদেশি উপসর্গগুলো সাধারণত আরবি, ফারসি, হিন্দি, উওর্দু ও ইংরেজি থেকে এসেছে।
5.
গ্রিক ভাষায় 'Grammar' শব্দের অর্থ কী?
গ্রিক ‘Grammatica’ বা ‘Grammatike’ শব্দ থেকে ‘Grammar’ শব্দটির উৎপত্তি, যার আদি ও ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো "শব্দশাস্ত্র" বা "শব্দবিদ্যা"
6.
“যে শাস্ত্র জানিলে বাঙ্গালা ভাষা শুদ্ধরূপে লিখিতে, পড়িতে ও বলিতে পারা যায়, তাহার নাম বাঙ্গালা ব্যাকরণ।” এ সংজ্ঞাটি কার?
সঠিক উত্তর: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
“যে শাস্ত্র জানিলে বাঙ্গালা ভাষা শুদ্ধরূপে লিখিতে, পড়িতে ও বলিতে পারা যায়, তাহার নাম বাঙ্গালা ব্যাকরণ”—এই সংজ্ঞাটি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ দিয়েছেন।
7.
'ব্যাকরণ মঞ্জরী' কার লেখা?
ড. মুহম্মদ এনামুল হক রচিত আরও কয়েকটি গ্রন্থ -মনীষা মঞ্জষা, বঙ্গে সুফী প্রভাব ,বুলগেরিয়া ভ্রমণ ,মুসলিম বাঙ্গামা সাহিত্য।
8.
উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদ কে ছিলেন?
উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদ ছিলেন প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত পণ্ডিত পাণিনি। তিনি 'ভাষাবিজ্ঞানের জনক' হিসেবেও পরিচিত। পাণিনি সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য তথ্য: আবির্ভাব: আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ থেকে ৪র্থ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে তিনি প্রাচীন ভারতে (বর্তমান পাকিস্তানের সিন্ধু নদ সংলগ্ন এলাকায়) জন্মগ্রহণ করেন। সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ: তাঁর রচিত কালজয়ী সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম 'অষ্টাধ্যায়ী'। কর্মপদ্ধতি: এতে সংস্কৃত ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব এবং বাক্যতত্ত্বের প্রায় ৩,৯৫৯টি নিয়ম অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক উপায়ে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। গভীর প্রভাব: তাঁর এই ব্যাকরণ কাঠামো আধুনিক ভাষাবিজ্ঞান ও এমনকি কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের ভিত্তি নির্মাণে গভীর অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে
9.
'ব্যাকরণ' শব্দের ব্যুৎপত্তি কোনটি?
সংস্কৃত ব্যাকরণ = বি + আ + √কৃ + অন শব্দটির বুৎপত্তিগত অর্থ বিশেষভাবে বিশ্লেষণ। ভাষা ব্যবহারের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম হচ্ছে ব্যাকরণ। এককথায় ব্যাকরণ হচ্ছে ভাষার সংবিধান।
10.
বাংলা ব্যাকরণ প্রথম রচনা করেন-
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড ছিলেন একজন ইংরেজ প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণ। ১৭৫১ সালের ২৫ মে লন্ডনের এক উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে তার জন্ম। তিনি ১৭৭৬ সালে লেখেন হিন্দু আইনশাস্ত্রের অনুবাদ 'আ কোড অফ জেন্টু ল'জ'। তিনি ১৭৭৮ সালে বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ আ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ রচনা করেন। তিনিই প্রথম বৈয়াকরণ যিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন। তার ব্যাকরণেই সর্বপ্রথম বাংলা অক্ষরের প্রকাশ ঘটে।