টপিকঃ বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়
1.
সাধুরীতিতে কোন পদটির দীর্ঘরূপ হয় না?
- সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎপন্ন ভাষাকে সাধু ভাষা হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে চলিত ভাষা বলে।
- সাধু রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
- অপরদিকে, চলিত রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।
- তবে সাধু ও চলিত রীতিতে অব্যয় অভিন্নরূপে ব্যবহৃত হয়।
2.
ক্রিয়ামূল, ক্রিয়ারকাল ও পুরুষ ইত্যাদি ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
সব ভাষার ব্যাকরণেই প্রধানত নিম্নলিখিত চারটি বিষয়ের আলোচনা করা হয় –
১. ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology)
২. শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology)
৩. বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax) এবং
৪. অর্থতত্ত্ব (Semantics)
এ ছাড়া অভিধানতত্ত্ব (Lexicography) ছন্দ ও অলংকার প্রভৃতিও ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়।
১. ধ্বনিতত্ত্ব : মানুষের বাক প্রত্যঙ্গ অর্থাৎ কণ্ঠনালি, মুখবিবর, জিহ্বা, আল - জিহ্বা, কোমল তালু, শক্ত তালু, দাঁত, মাড়ি, চোয়াল, ঠোট ইত্যাদির সাহায্যে উচ্চারিত আওয়াজকে ‘ধ্বনি’ বলা হয়। বাক প্রত্যঙ্গজাত ধ্বনির সুক্ষ্মতম মৌলিক অংশ বা একককে (Unit) ধ্বনিমূল (Phoneme) বলা হয়। ধ্বনির উচ্চারণপ্রণালী, উচ্চারণের স্থান, বর্ণমালা, ধ্বনি, ধ্বনির প্রতীক বা বর্ণের বিন্যাস, সন্ধি, ধ্বনির পরিবর্তন ও লোপ, ণত্ব ও ষত্ব বিধান ইত্যাদি বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
২. রূপতত্ত্বঃ এক বা একাধিক ধ্বনির অর্থবোধক সম্মিলন শব্দ তৈরি হয়, শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে বলা হয় রূপ (morpheme)। রূপ গঠন করে শব্দ। সেই জন্য শব্দতত্ত্বকে রূপতত্ত্ব (Morphology) বলা হয়। শব্দ, প্রত্যয়, পুরুষ, উপসর্গ, অনুসর্গ, কারক ও বিভক্তি, বচন, ক্রিয়ার কাল, ক্রিয়ামূল, দ্বিরুক্ত শব্দ, পদাশ্রিত নির্দেশক, সমাস, লিঙ্গ ইত্যাদি শব্দতত্ত্বে বা রূপতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।
৩. বাক্যতত্ত্বঃ মানুষের বাক্প্রত্যঙ্গজাত ধ্বনি সমন্বয়ে গঠিত শব্দসহযোগে সৃষ্ট অর্থবোধক বাক প্রবাহের বিশেষ বিশেষ অংশকে বলা হয় বাক্য (Sentence)। বাক্যের সঠিক গঠনপ্রণালী, বাচ্য, উক্তি, বিভিন্ন উপাদানের সংযোজন ও বিয়োজন, এদের সার্থক ব্যবহারযোগ্যতা, বাক্যমধ্যে শব্দ বা পদের স্থান বা ক্ৰম, পদের রূপ পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয় বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়। বাক্যের মধ্যে কোন পদের পর কোন পদ বসে, কোন পদের স্থান কোথায় - বাক্যতত্ত্বে এসবের পূর্ণ বিশ্লেষণ থাকে। বাক্যতত্ত্বকে পদক্রমও বলা হয়।
৪. অর্থতত্ত্বঃ শব্দের অর্থবিচার, বাক্যের অর্থবিচার, অর্থের বিভিন্ন প্রকারভেদ, যেমন—মুখ্যার্থ, গৌণার্থ, বিপরীতার্থ ইত্যাদি অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
3.
কোনটি ভাষার মৌলিক অংশ নয়?
সঠিক উত্তর হলো: পদক্রম ।
ব্যাখ্যা:
ভাষার প্রধান বা মৌলিক অংশ চারটি:
১. ধ্বনি (Sound)
২. শব্দ (Word)
৩. বাক্য (Sentence)
৪. অর্থ (Meaning)
প্রশ্নের অপশনগুলোর মধ্যে ধ্বনি, শব্দ এবং অর্থ—এই তিনটি ভাষার মৌলিক অংশ। কিন্তু 'পদক্রম' হলো বাক্যের অন্তর্গত পদ সাজানোর নিয়ম বা বাক্যতত্ত্বের একটি আলোচ্য বিষয়, এটি সরাসরি ভাষার মৌলিক চারটি উপাদানের নামের মধ্যে পড়ে না (সেটি হলো 'বাক্য')। তাই 'পদক্রম' সঠিক উত্তর।
4.
ভাষার মৌলিক অংশ কয়টি?
প্রত্যেক ভাষারই চারটি মৌলিক অংশ থাকে। যেমনঃ
১.ধ্বনি(Sound)
২.শব্দ(Word)
৩.বাক্য(Sentence)
৪.অর্থ( Meaning)
5.
কোন শব্দটি ব্যাকরণের আলোচ্যসূচিতে পড়ে না?
মনস্তত্ত্ব শব্দটি ব্যাকরণের আলোচ্যসূচিতে পড়ে না। ব্যাকরণ মূলত ভাষার গঠন, শব্দ, বাক্য, এবং অর্থের নিয়মকানুন নিয়ে আলোচনা করে। অন্যদিকে, মনস্তত্ত্ব হলো মানুষের মানসিক প্রক্রিয়া ও আচরণের বিজ্ঞান, যা ব্যাকরণের আওতাভুক্ত নয়।
6.
রূপতত্ত্বের অপর নাম কি?
ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় চারটি।
১) ধ্বনিতত্ত্ব বা phonology
২) শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব বাmorphology
৩) বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম বা syntax
৪) অর্থতত্ত্ব বা semantics
7.
প্রকৃতি ও প্রত্যয় বাংলা ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়সমূহ :
কারক, সমাস, কাল ক্রিয়া
ধাতু, লিঙ্গ, বচন নিয়া
প্রকৃতি, প্রত্যয় পাবে তুমি
রূপতত্ত্বের স্বর্গে গিয়া।
8.
ভাষার মূল উপাদান কী?
ভাষার মূল উপাদান হলো ধ্বনি। কণ্ঠনিঃসৃত এই ধ্বনিগুলো একত্রিত হয়ে শব্দ তৈরি করে এবং শব্দ দিয়ে বাক্য গঠনের মাধ্যমেই মানুষ মনের ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করে।
9.
রূপতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়গুলো হলোঃ শব্দ, শব্দের গঠন, বচন, লিঙ্গ, কারক, পুরুষ, উপসর্গ, প্রত্যয়, বিভক্তি, সমাস, ক্রিয়া প্রকরণ ইত্যাদি ।
10.
'Phonology' শব্দের অর্থ কী?
Phonology (ফোনোলজি) শব্দের বাংলা অর্থ হলো "ধ্বনিতত্ত্ব" বা "ধ্বনিবিজ্ঞান"। এটি ভাষাবিজ্ঞানের একটি প্রধান শাখা।