টপিকঃ শিক্ষক নিবন্ধন প্রশ্ন ব্যাংক
2.
সুহৃদ কী ধরনের শব্দ?
সুন্দর হৃদয় যার= সুহৃদ। এখানে ব্যবহারিক অর্থ ত্যাগ করে বিশেষ অর্থ গ্রহণ করছে। তাই যোগরূঢ় হবে৷
3.
বাংলা গদ্যের জনক কে?
বাংলা গদ্যের জনক হলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর । তিনি বাংলা গদ্যকে প্রথম সার্থক রূপ দেন, যতিচিহ্নের ব্যবহার করেন এবং বাংলা ভাষার গদ্যরীতিকে সুশৃঙ্খল ও গতিশীল করেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে 'বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছিলেন ।
5.
'আমার গানের মালা আমি করব কারে দান।' বাক্যটিতে 'কারে'- শব্দটির কারক ও বিভক্তি কোনটি?
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে বলা হয় কর্ম কারক। এজন্য 'কারে' এখানে কর্মকারক এবং এ-কার যুক্ত থাকায় ৭মী বিভক্তি।
6.
ডাক্তার ডাক'-কোন কারকে কোন বিভক্তি?
যাকে অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্ম বা কর্মকারক বলে। ডাক্তার ডাক (কাকে ডাক?): কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি।
7.
কোনটি 'নিপাতনে সিদ্ধ' প্রত্যয়যুক্ত শব্দ?
উপাসক অর্থে: শিব + ষ্ণ = শৈব।
সম্পর্ক বােঝাতে: দেব + ষ্ণ = দৈব, চিত্র + ষ্ণ = চৈত্র।
কিন্তু বিশেষ নিয়মে: সূর্য + ষ্ণ (অ) = সৌর।
8.
সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য কোন কোন পদে বেশি ?
- সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎপন্ন ভাষাকে সাধু ভাষা হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে চলিত ভাষা বলে।
- সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য হলো:
- সাধু রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল কিন্তু চলিত রীতি তদ্ভব শব্দবহুল ও পরিবর্তনশীল।
- সাধু রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
অপরদিকে,
- চলিত রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। সাধু রীতিতে সর্বনাম, ক্রিয়া ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহার করা হয়।
অপরদিকে,
- চলিত রীতিতে সর্বনাম, ক্রিয়া ও অনুসর্গের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করা হয়।
- যেমন: অতঃপর তাহারা চলিয়া গেল (সাধু)। তারপর তারা চলে গেল (চলিত)।
10.
অনুবাদ কোন প্রকারের হবে তা কীসের ওপর নির্ভর করে ?
11.
অনুবাদের পারদর্শিতা কিসের উপর নির্ভরশীল ?
12.
'পার হইয়া'-এর চলিতরূপ কোনটি?
সাধুরীতি তে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে। অন্যদিকে সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। যেমন:
সাধুরীতি - চলিত রীতি
তাহাকে(সর্বনাম) - তাকে
পার হইয়া( ক্রিয়া) - পেরিয়ে
15.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ ?
* 'কেবল মাত্র তুমি যাবে' বাক্যটির শুদ্ধ রুপ কেবল 'তুমি যাবে'।
* 'এতে আশ্চার্য হলাম' বাক্যটির শুদ্ধরুপ 'এতে আশ্চর্য/ আশ্চর্যান্বিত হলাম'।
* ' এ সংবাদে সন্তোষ হলাম' বাক্যটির শুদ্ধ রুপ ‘এ সংবাদে সন্তুষ্ট হলাম।’
'বিবিধ' মানেই অনেক বা নানা রকমের জিনিস বোঝায়।
16.
বাক্যে “কমা” অপেক্ষা বেশি বিরতির প্রয়োজন হলে কী বসে ?
কমা অপেক্ষা বেশি বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।একটি অপূর্ন বাক্যের পরে অন্য একটি বাক্যের অবতারনা করতে হলে কোলন বসে।যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা তার বেশি বাক্যের সমন্বয় বা সংযোগ বোঝাতে ড্যাস চিহ্ন বসে।
17.
রেস্তোরা কোন ভাষার শব্দ ?
ফরাসি ভাষা থেকে বাংলায় আগত শব্দ- কার্তুজ, কুপন, ডিপো, রেস্তোরা ।
18.
বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা , অর্ধমাত্রা ও মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা যথাক্রমে -
ভাষার মূল উপাদান ধ্বনি আর এই ধ্বনি নির্দেশক চিহ্নকে বলা হয় বর্ণ।
বাংলা বর্ণমালায় মোট ৫০ টি বর্ণ রয়েছে। তার মধ্যে স্বরবর্ণ ১১ টি ও ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি।
মাত্রার উপর ভিত্তি করে বর্ণ তিন প্রকারঃ
১. মাত্রাহীন বর্ণ ১০ টি (এ,ঐ,ও,ঔ - স্বরবর্ণ ৪ টি) এবং (ঙ,ঞ,ৎ,ং, ঃ, ঁঁ - ব্যঞ্জনবর্ণ ৬ টি)
২. অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮ টি (ঋ - স্বরবর্ণ ১ টি) এবং (খ,গ,ণ,থ,ধ,প,শ - ব্যঞ্জনবর্ণ ৭ টি)
৩. পূর্ণমাত্রার বর্ণ ৩২ টি (স্বরবর্ণ ৬ টি + ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬ টি)।
যৌগিক স্বরজ্ঞাপক দুটি বর্ণ — ঐ (অ + ই), ঔ (অ + উ)
21.
‘যে বন হিংস্র জন্তুতে পরিপূর্ণ’- এক কথায় কী বলে ?
যে বন হিংস্র জন্তুতে পরিপূর্ণ = শ্বাপদসংকুল।
22.
সঞ্চয়িতা' কার রচনা?
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্বাচিত কবিতার সংকলন 'সঞ্চয়িতা' (১৯৩১)।
- এ সংকলনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট ২৭টি কাব্যগ্রন্থের কবিতা সংকলন করেন।
- কাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচিত কবিতার সংকলন 'সঞ্চিতা' (১৯২৮)।
- 'সঞ্চিতা'য় মোট ৭৮টি কবিতা ও ১৭টি গান সংকলিত আছে।
- এটি তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
24.
নদের চাঁদ’ বাগধারাটির অর্থ কি ?
25.
নিচের কোন শব্দটি প্রাতিপদিক ?
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। বাংলাএকাডেমী অভিধান অনুসারে 'লাঙ্গল' এর সাথে কোন বিভক্তি যুক্ত হয়নি, তাই এটি প্রাতিপদিক।
যেমন— লাঙ্গল, হাত, বই, ইত্যাদি।
26.
A bolt from the blue' বাক্যটির সঠিক বাংলা অনুবাদ কোনটি?
'A bolt from the blue' =বিনা মেঘে বজ্রপাত
28.
বাক্যে কোন যতি চিহ্নের প্রয়োগে থামার প্রয়োজন নেই ?
বাংলা ব্যাকরণে হাইফেন (-) এবং ইলেক বা লোপ চিহ্ন ( ’ ) প্রয়োগের ক্ষেত্রে থামার কোনো প্রয়োজন নেই。 [1, 2]
হাইফেন (-): সমাসবদ্ধ বা পাশাপাশি বসে এমন পদগুলোকে যুক্ত করতে এটি ব্যবহৃত হয়।
ইলেক বা লোপ চিহ্ন (’): কোনো বর্ণ বা স্বরধ্বনি বাদ পড়েছে তা বোঝাতে ব্যবহৃত হয় (যেমন— বল’ব)। [1, 2]
এদের কাজ শুধু শব্দের গঠন বা রূপ স্পষ্ট করা, বাক্যের মধ্যকার বিরতি নির্দেশ করা নয়
29.
'ঢাক ঢাক গুড় গুড়' বাগধারাটির অর্থ কি?
» ঢাক ঢাক গুড় গুড় - কপটতা/লুকোচুরি
» ডুবে ডুবে পানি খাওয়া - গোপনে কুকাজ করা
» ডাকাবুকো - দুরন্ত
» ডান হাতের ব্যাপার/কাজ - আহার/ভোজন
» ডুমুরের ফুল - অদৃশ্য বস্তু/ অমাবস্যার চাঁদ
» ঢিমে তেতালা - মৃদুগতি
» ঢাকের বায়া - অকেজো
» ঢাকের কাঠি - তোষামুদে
» ঢেঁকি অবতার - নিষ্কর্মা ও নির্বোধ লোক
» ঢেকির কচকচি - কলহ
30.
‘মতৈক্য’ শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি ?
'মতৈক্য' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ মত + ঐক্য। অ/আ এরপরে এ/ঐ থাকলে উভয়ে মিলে ঐ হয় এবং তা ‘অ/আ’ - র আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।