নিচের কোন শব্দগুচ্ছ ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান অনুসারে সঠিক?
যে বিধি অনুসারে তৎসম শব্দে 'ণ' এর ব্যবহার হয় এবং অতৎসম শব্দে 'ণ' এর ব্যবহার না হয়ে 'ন' এর ব্যবহার হয় , তাকে ণ - ত্ব বিধি বা ণ - ত্ব বিধান বলে এবং তৎসম শব্দের বানানে 'ষ' এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ষ - ত্ব বিধান। ণ - ত্ব বিধানের নিয়মানুযায়ী ,ত বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না। যেমন - অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন। ষ - ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে , খাঁটি বাংলা ও বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। যেমন - দেশি ,জিনিস, পোশাক, মাস্টার। কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য - ষ হয়। যেমন - আষাঢ়, ভাষা, ভাষণ, ঊষা, পাষাণ ইত্যাদি।
Related Questions
'দীপ্যমান' একটি ঘটমান বর্তমান বিশেষণ পদ, যার অর্থ 'যা জ্বলছে বা দীপ্তি পাচ্ছে'। এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় হলো '√দীপ্ + শানচ্ (মান)'। আত্মনেপদী ধাতুর শেষে ঘটমান বর্তমান বোঝাতে 'শানচ্' প্রত্যয় যুক্ত হয় এবং এর 'মান' অংশটি শব্দে দৃশ্যমান থাকে। যেমন: √বৃধ্ + শানচ্ = বর্ধমান।
বাংলা ধাতুর সাথে বাংলা প্রত্যয় যুক্ত হলে তাকে বাংলা কৃৎপ্রত্যয় বলে। 'খেলনা' শব্দটি '√খেল্' (বাংলা ধাতু) + 'অনা' (বাংলা কৃৎপ্রত্যয়) যোগে গঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, 'কারক' (√কৃ+অক), 'লিখিত' (√লিখ্+ত) এবং 'বেদনা' (√বিদ্+অন+আ) হলো সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয় সাধিত শব্দ।
'রূপতত্ত্ব' বা 'শব্দতত্ত্ব' (Morphology) শব্দের গঠন, শ্রেণিবিভাগ এবং রূপ পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করে। প্রকৃতি ও প্রত্যয় শব্দের গঠন এবং নতুন শব্দ তৈরির প্রক্রিয়া বর্ণনা করে, তাই এটি রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। বাক্যতত্ত্ব বাক্য নিয়ে, অর্থতত্ত্ব অর্থ নিয়ে এবং ধ্বনিতত্ত্ব ধ্বনি নিয়ে আলোচনা করে।
'জেলে' শব্দটি যার পেশা জাল দিয়ে মাছ ধরা। এর মূল গঠন হলো 'জাল + উয়া > ইয়া'। এখানে 'উয়া' প্রত্যয়টি পেশা বা সংশ্লিষ্টতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। পরবর্তীকালে স্বরলোপের মাধ্যমে 'জাল+ইয়া' থেকে 'জেলে' শব্দটি গঠিত হয়েছে (যেমন: মাছ+উয়া > মেছো)। সুতরাং, মূল প্রকৃতি-প্রত্যয় 'জাল+ইয়া'।
জব সলুশন