উপসর্গের কাজ কী?
ব্যাকরণে উপসর্গ-এর প্রধান কাজ হলো শব্দের বা ধাতুর পূর্বে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করা। উপসর্গের নিজস্ব কোনো স্বাধীন অর্থ নেই, তবে এগুলো অন্য শব্দের আগে যুক্ত হয়ে শব্দের অর্থে বৈচিত্র্য নিয়ে আসে।
উপসর্গ প্রধানত ৫ ধরনের কাজ করে থাকে:
নতুন শব্দ গঠন: মূল শব্দের আগে বসে সম্পূর্ণ নতুন অর্থ প্রকাশকারী শব্দ তৈরি করে।
যেমন: 'হার' (পরাজয়) শব্দের আগে 'প্র' যুক্ত হয়ে হলো 'প্রহার' (মারা)।
অর্থে পূর্ণতা সাধন: মূল শব্দের অর্থের পরিধি বা গভীরতা বৃদ্ধি করে।
যেমন: 'পূর্ণ' শব্দের আগে 'পরি' যুক্ত হলে হয় 'পরিপূর্ণ'।
অর্থের সম্প্রসারণ: শব্দের সাধারণ অর্থকে প্রসারিত করে।
যেমন: 'তাপ' শব্দের আগে 'প্র' যুক্ত হয়ে হলো 'প্রতাপ' (মহাতাপ বা প্রভাব)।
অর্থের সংকোচন: মূল শব্দের অর্থকে কমিয়ে বা সংকুচিত করে।
যেমন: 'কাজ' শব্দের আগে 'অ' (অভাব অর্থে) যুক্ত হয়ে হলো 'অকাজ' (খারাপ কাজ)।
অর্থের পরিবর্তন: শব্দের বিপরীত বা সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে।
যেমন: 'বাদ' (পরিত্যাগ) শব্দের আগে 'অন' যুক্ত হয়ে হয় 'অনুবাদ' (ভাষা রূপান্তর)
Related Questions
ঈষৎ পাংশুবর্ণ'-এর বাক্য সংকোচন হলো 'কয়রা'। বাংলা ব্যাকরণে একাধিক পদের অর্থ সংক্ষেপ করে একটিমাত্র শব্দে প্রকাশ করার নিয়মটিকে বাক্য সংকোচন বা এক কথায় প্রকাশ বলা হয়।
আফতাব শব্দের সমার্থক শব্দ হলো সূর্য। এর অন্যান্য প্রচলিত সমার্থক শব্দগুলো হলো: আদিত্য,ভাস্কর,রবি,ভানু,তপন,দিবাকর l
Diamond cuts diamonds (বা Diamond cut diamond)-এর সবচেয়ে প্রচলিত ও সঠিক বাংলা প্রবাদ হলো: "মানিকে মানিক চেনে"। এটি মূলত সেই ধরনের পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয় যেখানে সমান শক্তিশালী, বুদ্ধিমান বা চতুর দু'জন ব্যক্তির মধ্যে প্রতিযোগিতা বা ভাবের আদান-প্রদান ঘটে।
”দ্যুলোক” শব্দের যথার্থ সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে দিব্ + লোক।
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি 'দ্যুলোক' এর যথার্থ সন্ধি বিচ্ছেদ হল : দিব্ + লোক। আরো কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি হল : এক্ + দশ = একাদশ, ষট্ + দশ = ষোড়শ, মনস্ + ঈশা = মনীষা, বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি, গো + পদ = গোষ্পদ, দিব্ + লোক = দ্যুলোক, বন্ + পতি = বনস্পতি, পর্ + পর = পরস্পর, আ + চর্য = আশ্চর্য, তৎ + কর = তস্কর
”উচাটন”-এর বিপরীতার্থক শব্দ হলো প্রশান্ত।
বিশ্লেষণ:
উচাটন শব্দের অর্থ: অস্থির, উৎকণ্ঠিত বা চঞ্চল।
প্রশান্ত শব্দের অর্থ: শান্ত, ধীরস্থির বা নিস্তরঙ্গ।
সুতরাং, সঠিক উত্তর: প্রশান্ত (অপশন B)।
সঠিক উত্তরটি হলো: কর্মে ৭মী।
ব্যাখ্যা:
১. কারক নির্ণয়: বাক্যটির ক্রিয়াপদ হলো 'ত্যাগ কর'। ক্রিয়াপদকে 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা কর্ম কারক (যদি স্বত্ব ত্যাগ করে দান না বোঝায়)।
প্রশ্ন: কাকে ত্যাগ কর?
উত্তর: গুণহীনে (গুণহীন ব্যক্তিকে)।
সুতরাং, এটি কর্ম কারক।
২. বিভক্তি নির্ণয়: মূল শব্দ 'গুণহীন'-এর সঙ্গে 'এ' (গুণহীন + এ = গুণহীনে) বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী 'এ' হলো ৭মী বিভক্তি।
তাই, 'গুণহীনে' পদটি কর্মে ৭মী বিভক্তি।
জব সলুশন