সে আসুক” এটি কোন বাচ্য?
সে আসুক এটি ভাববাচ্যের উদাহরণ
Related Questions
ভাববাচ্য : বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে প্রকাশিত হলে তাকে ভাববাচ্য বলে। এ ধরনের বাক্যে কর্ম থাকে না এবং কর্তাও প্রধান হয় না। কাউকে কোন কিছু সরাসরি না বলে ঘুরিয়ে বলতে গেলে ভাববাচ্যে বলা যায়।
এ ধরনের বাক্যে কর্তায় - ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া বা তৃতীয়া বিভক্তি হয়।
নামপুরুষের ক্রিয়াপদ [ক্রিয়াপদ] হয়।
মাঝে মাঝে মূল ক্রিয়াপদের সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়াপদও যুক্ত হয়।
কখনো কখনো কর্তা উহ্য থাকে, অর্থাৎ কর্তা অনুল্লেখিত থাকে।
যেমন -
আমার খাওয়া হল না। (নামপুরুষের ক্রিয়াপদ)
তোমার যাওয়া হবে না। (নামপুরুষের ক্রিয়াপদ)
এ পথে চলা যায় না। (সহযোগী ক্রিয়াপদ যুক্ত)
#বাচ্য_পরিবর্তন
বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে।
বাংলা ভাষায় ৩টি বাচ্য পাওয়া যায় - কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্য।
বিভিন্ন ধরনের বাচ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগে বাক্যের কর্তা ও কর্ম সম্পর্কে ভালোভাবে জানা দরকার।
কর্তা :
যেই পদ বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে কর্তা বলে।
অর্থাৎ, যে বাক্যের কাজটি করে, সে - ই কর্তা।
যেমন -
গরু ঘাস খায়। এখানে খাওয়ার কাজটি করছে ‘গরু’। - সুতরাং, এখানে ‘গরু’ কর্তা।
টেবিলটি সকাল থেকে এরকম নড়বড় করছে। - এখানে ‘নড়বড় করা’র কাজটি করছে ‘টেবিল’। সুতরাং, এখানে কর্তা ‘টেবিল’।
ক্রিয়াকে ‘কে/কারা‘ দিয়ে প্রশ্ন করলে কর্তা পদ পাওয়া যায়।
কর্ম :
কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম বলে।
অর্থাৎ, কর্তা যার সাহায্যে কাজটি করে, তাই কর্ম।
যেমন -
গরু ঘাষ খায়। - এখানে ‘গরু’ ‘খাওয়া’র কাজটি করার জন্য ‘ঘাস’কে অবলম্বন হিসেবে নিয়েছে। সে ‘ঘাস’কে দিয়ে ‘খাওয়া’র কাজ করছে। সুতরাং, এখানে ‘ঘাস’ কর্ম।
বাবা আমাকে ল্যাপটপ কিনে দিয়েছেন। - এখানে ‘কিনে দেয়া’র কাজটি করেছেন ‘বাবা’। ‘বাবা’ এখানে কর্তা। ‘বাবা’ ‘কিনে দেয়া’র কাজ করার জন্য ‘আমাকে’ ও ‘ল্যাপটপ’ - র সাহায্য নিয়েছেন। এখানে, ‘আমাকে’ ও ‘ল্যাপটপ’ কর্ম।
ক্রিয়াকে ‘কী/ কাকে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে কর্তা পদ পাওয়া যায়।
কর্তৃবাচ্য :
বাক্যে কর্তার প্রাধান্য রক্ষিত হলে তাকে কর্তৃবাচ্য বলে। এ ধরনের বাক্যে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়াপদ ব্যবহৃত হয় এবং ক্রিয়া কর্তার অনুসারী হয়।
কর্তৃবাচ্যের পদে কর্তায় - শূণ্য বিভক্তি হয়।
কর্মে - দ্বিতীয়া বা ষষ্ঠী বিভক্তি হয়। (শূণ্য বিভক্তিও হতে পারে)
যেমন -
ছাত্ররা বাংলা পড়ছে।
শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
রোগী পথ্য সেবন করে।
কর্মবাচ্য :
কর্মপদ প্রধান রূপে প্রকাশিত হলে তাকে কর্মবাচ্য বলে। এ ধরনের বাক্যে ক্রিয়াপদ কর্তা অনুযায়ী না হয়ে কর্মপদ অনুযায়ী হয় এবং কর্মপদের অনুসারী হয়।
এ ধরনের বাক্যে কর্তায় - তৃতীয়া বিভক্তি হয়।
কর্মে - শূণ্য বিভক্তি হয়। (কখনো কখনো দ্বিতীয়া বিভক্তিও হয়)
যেমন -
শিকারি কর্তৃক বাঘটি নিহত হয়েছে।
আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য বিজিত হয়।
চোরটা ধরা পড়েছে।
আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে। (কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি)
ভাববাচ্য :
বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে প্রকাশিত হলে তাকে ভাববাচ্য বলে। এ ধরনের বাক্যে কর্ম থাকে না এবং কর্তাও প্রধান হয় না। কাউকে কোন কিছু সরাসরি না বলে ঘুরিয়ে বলতে গেলে ভাববাচ্যে বলা যায়।
এ ধরনের বাক্যে কর্তায় - ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া বা তৃতীয়া বিভক্তি হয়।
নামপুরুষের ক্রিয়াপদ [ক্রিয়াপদ] হয়।
মাঝে মাঝে মূল ক্রিয়াপদের সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়াপদও যুক্ত হয়।
কখনো কখনো কর্তা উহ্য থাকে, অর্থাৎ কর্তা অনুল্লেখিত থাকে।
যেমন -
আমার খাওয়া হল না। (নামপুরুষের ক্রিয়াপদ)
তোমার যাওয়া হবে না। (নামপুরুষের ক্রিয়াপদ)
এ পথে চলা যায় না। (সহযোগী ক্রিয়াপদ যুক্ত)
কোথা থেকে আসা হচ্ছে। (সহযোগী ক্রিয়াপদ যুক্ত)
এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না। (কর্তা ‘তুমি’ উহ্য)
এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
কর্মকর্তৃবাচ্য :
এছাড়াও বাংলায় আরো এক ধরনের প্রকাশভঙ্গির বাক্য দেখা যায়। এ ধরনের বাক্যের বাচ্যকে বলা হয় কর্মকর্তৃবাচ্য।
এ ধরনের বাক্যে কর্তাপদ উহ্য থাকে, তবে কর্মপদ থাকে। আর ওই কর্মপদই কর্তার কাজ করে।
অর্থাৎ, যে বাক্যে কর্তা থাকে না, কর্মই কর্তার কাজ করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন -
কাজটা ভাল দেখায় না। - এখানে কর্তা নেই। কর্ম হল ‘কাজ’। কিন্তু ‘কাজ’ নিজেই কর্তার মত বাক্যকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এরকম -
বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।
" 'আজকে' নগদ কালকে ধার " বাক্যের নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকে ২য়া বিভক্তি।
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
অধিকরণ কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি হলো যেমন: মন আমার নাচে রে আজিকে।
'ভাইয়ে ভাইয়ে' বেশ মিল। - বাক্যটিতে ব্যতিহার কর্তার প্রয়োগ ঘটেছে। যেমন "রাজায় রাজায় লড়াই"। আর এখানে ৭মী বিভক্তি ব্যবহৃত হয়েছে
জব সলুশন