মানুষের ভাষাকে 'সাধু ভাষা' হিসেবে প্রথম অভিহিত করেন কে?
বাংলা ভাষারীতিতে 'সাধু ভাষা' পরিভাষাটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন রাজা রামমোহন রায়। ১৮১৫ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'বেদান্ত গ্রন্থ'-তে তিনি এই মার্জিত ও গুরুগম্ভীর ভাষাকে প্রথম অভিহিত করেন। পরবর্তী সময়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এই ভাষাকে আরও প্রাঞ্জল ও সুবিন্যস্ত করে তোলেন, যার কারণে তাঁকে সাধু ভাষার জনক বলা হয়
Related Questions
সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা কে " চলিত ভাষা " বলা হয় । চলিত ভাষার আদর্শরুপে গৃহীত ভাষাকে বলা হয় প্রতিম ভাষা । চলিত ভাষার অন্যতম বৈশিষ্ট্য প্রমিত উচ্চারণ । কলকাতা অঞ্চলের মৌখিক ভাষাকে ভিত্তি করে চলিত ভাষা গড়ে উঠেছে । উনিশ শতকের তৃতীয় দশকে ভাবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যয়ের হাতে চলিত রীতির প্রথম ব্যবহার হয় । তারপর প্যারীচাঁদ মিত্র ও কালী প্রসন্ন সিংহের রচনায় এর ক্রমবিকাশ ঘটে
প্রমিত উচ্চারণ (অথবা সর্বজনগ্রাহ্য উচ্চারণ) চলিত ভাষার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। চলিত ভাষা মুখে বলার সময় বা লেখার সময় একটি নির্দিষ্ট আদর্শ বা প্রমিত রূপ অনুসরণ করে, যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও সুস্পষ্ট হয়
কথ্যরীতি সমন্বয়ে শিষ্ট বা শিক্ষিতজনের ব্যবহৃত ভাষাকে আদর্শ চলিত ভাষা বা মান্য চলিত ভাষা বলে। এটিই বর্তমানে বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য ও মানদণ্ড লিখিত রূপ।
'প্রমিত বাংলা ভাষা' বলতে মূলত সর্বজনগ্রাহ্য ও আদর্শ চলিত রীতির বাংলা ভাষাকে বোঝায়। এটি আঞ্চলিকতার ঊর্ধ্বে উঠে নির্দিষ্ট ব্যাকরণ ও বানান মেনে চলে। শিক্ষা, প্রশাসন, গণমাধ্যমসহ সকল আনুষ্ঠানিক কাজে এই মান্য বা প্রমিত রূপটি ব্যবহৃত হয়
লিখিত বাংলা বা লেখ্য ভাষারীতিকে প্রধানত সাধু ও চলিত (বর্তমানে চলিত রীতির মানসম্মত আদর্শ রূপই প্রমিত রীতি) রীতিতে ভাগ করা যায় । প্রমিত রীতি চলিত রীতিরই আধুনিক রূপ, এটি নিজে সাধু ও চলিতে বিভক্ত নয়।
চলিত ভাষার আদর্শরূপে গৃহীত ভাষাকে প্রমিত ভাষা বলা হয়। এটি সমগ্র শিক্ষিত সমাজ কর্তৃক গৃহীত ও ব্যবহৃত সর্বজনীন এবং মানসম্মত ভাষারূপ।
জব সলুশন