চলিত ভাষার রীতির ক্ষেত্রে কোন বৈশিষ্ট্য প্রযোজ্য?
চলিত ভাষার প্রধান ও প্রযোজ্য বৈশিষ্ট্য হলো এটি পরিবর্তনশীল এবং এটি সাধারণ মানুষের মুখের ভাষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠায় অত্যন্ত সর্বজনগ্রাহ্য, মার্জিত ও গতিশীল।
Related Questions
বাংলা ভাষার চলিত রীতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি কৃত্রিমতা বর্জিত। অর্থাৎ, এই রীতিটি মানুষের মুখের স্বাভাবিক ও দৈনন্দিন বুলির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এর শব্দচয়ন ও বাক্যগঠন অত্যন্ত সহজ, সাবলীল ও প্রাণবন্ত। চলিত রীতির অন্যান্য প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
সর্বজনীনতা: এটি অত্যন্ত সহজবোধ্য এবং সব মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য।
সংক্ষিপ্ত রূপ: এতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহৃত হয় (যেমন: 'করিতেছে'-এর বদলে 'করছে', 'তাহারা'-এর বদলে 'তারা')।
শব্দভাণ্ডার: এতে তৎসম (সংস্কৃত) শব্দের ব্যবহার কম থাকে এবং তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের আধিক্য দেখা যায়।
গতিশীলতা: চলিত রীতি সবসময় পরিবর্তনশীল ও গতিশীল।
- সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎপন্ন ভাষাকে সাধু ভাষা হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে চলিত ভাষা বলে।
- সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য হলো: সাধু রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল কিন্তু চলিত রীতি তদ্ভব শব্দবহুল ও পরিবর্তনশীল।
- সাধু রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে। অপরদিকে, চলিত রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।
- সাধু রীতিতে সর্বনাম, ক্রিয়া ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহার করা হয়। অপরদিকে, চলিত রীতিতে সর্বনাম, ক্রিয়া ও অনুসর্গের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করা হয়।
- যেমন: অতঃপর তাহারা চলিয়া গেল (সাধু)। তারপর তারা চলে গেল (চলিত)।
'তৎসম' শব্দের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয় সাধু রীতিতে। তৎসম (সংস্কৃত থেকে আগত) শব্দগুলো সাধারণত গুরুগম্ভীর হয়, যা সাধু ভাষারীতিকে সমৃদ্ধ ও সুশৃঙ্খল করে
উনিশ শতকে বাংলা ভাষার যে লিখিত রুপ গড়ে উঠে তার নাম দেওয়া হয় 'সাধু ভাষা'।
সাধু ভাষার বৈশিস্ট্য-
- সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণরীতি অনুসরণ করে।
- সাধু রীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতায় অনুপযোগী অর্থাৎ বক্তৃতা ও নাটকের সংলাপের জন্য সাধু ভাষা উপযোগী নয়।
- সাধু রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি অনুসরণ করে।
- সাধু ভাষার একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি লেখ্য ভাষা।
বাংলা ভাষার সাধু রীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট। এটি কঠোর ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে এবং এর কাঠামো সাধারণত অপরিবর্তনীয় সাধু ভাষার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
ব্যাকরণসিদ্ধ: এটি সুনির্দিষ্ট ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে।
ক্রিয়া ও সর্বনামের পূর্ণরূপ: এতে ক্রিয়া (যেমন: করিতেছি) এবং সর্বনাম (যেমন: তাহারা) পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
তৎসম শব্দের প্রাচুর্য: এতে সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি থাকে।
গুরুগম্ভীর সাধু ভাষার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। বাংলা ভাষার এই রীতির শব্দচয়ন বেশ ভারিক্কি বা আভিজাত্যপূর্ণ হয়।
জব সলুশন