বাংলা ভাষায় মৌলিক ধ্বনির সংখ্যা কত?
বাংলা ভাষায় মোট মৌলিক ধ্বনি ৩৭টি। এর মধ্যে মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি এবং মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি।
১. মৌলিক স্বরধ্বনি (৭টি):
যে স্বরধ্বনিগুলোকে অন্য কোনো ধ্বনির সাহায্যে বিশ্লেষণ বা উচ্চারণ করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক স্বরধ্বনি বলে। এগুলো হলো: অ,আ,ই,উ'এ,ও,অ্যা
২. মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি (৩০টি): ধ্বনিবিজ্ঞানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী বাংলা ভাষায় মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনির সংখ্যা ৩০টি। (ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ট, ঠ, ড, ঢ, ত, থ, দ, ধ, ন, প, ফ, ব, ভ, ম, য, র, ল, শ, ষ, স, হ)।
Related Questions
মানুষ মনের ভাব প্রকাশের জন্য যে কথা বলে তার মূলে আছে কতকগুলো ধ্বনি।
-ড. হায়াৎ মামুদ ‘ভাষা-শিক্ষা’ গ্রন্থে বলেন, ‘মনের ভাব প্রকাশের জন্য মুখ থেকে যে আওয়াজ বা শব্দ বের হয় তাকে ধ্বনি বলে। তবে, ব্যাকরণে শুধু মানুষের মুখনিঃসৃত অর্থবোধক আওয়াজকে ধ্বনি বলে।
-অর্থাৎ অর্থবোধক ধ্বনির সমষ্টিই ভাষার প্রধান উপাদান। কিন্তু ধ্বনি দৃশ্যমান নয়, ধ্বনি উচ্চারণীয় ও শ্রবণীয়। একজন বলে অন্যজন শোনে। সেই ধ্বনিকে, আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে, বাধ্বনিকে একটা দৃশ্যরূপ দেওয়ার জন্যই বর্ণের সৃষ্টি হয়েছে।'
-ড. মুহম্মদ আবদুল হাই ‘তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের সঙ্গে মানুষের সামাজিকতা বজায় রাখতে হলে তার প্রধান উপায় কথা বলা, মুখ খোলা, আওয়াজ করা। সে আওয়াজ বা ধ্বনিগুলোর একমাত্র শর্ত হচ্ছে যে, সেগুলো অর্থবোধক হওয়া চাই।’
-‘অর্থবোধকতা’ প্রসঙ্গে ড. মুহম্মদ আবদুল হাই ‘ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থে বলেন, ‘অর্থবোধক ধ্বনিগুলোই মানুষের বিভিন্ন ভাষার বাধ্বনি।' মানুষের বাক-প্রত্যঙ্গ অর্থাৎ কণ্ঠনালী, মুখবিবর, জিহ্বা, আল-জিহ্বা, নাসিকা, কোমল তালু, শক্ত তালু, দাঁত, মাড়ি, চোয়াল, ঠোঁট ইত্যাদির সাহায্যে উচ্চারিত আওয়াজকে ধ্বনি বলে।
উচ্চারণ কার্যের সঙ্গে যুক্ত ইন্দ্রিয়সমূহ ১. ঠোঁট , ওষ্ঠ ২. দাঁতের পাটি ৩. দন্তমূল, অগ্র দন্তমূল ৪. অগ্রতালু, শক্ত তালু ৫. পশ্চাত্তালু , নরম তালু, মূর্ধা ৬. আলজিভ ৭. জিহ্বাগ্র ৮. সম্মুখ জিহ্বা ৯. পশ্চাদ জিহ্বা, জিহ্বামূল ১০. নাসা - গহ্বর ১১. স্বর - পল্লব, স্বরতন্ত্রী ও ১২. ফুসফুস।
- ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলোকে একত্রে বাগ্যন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগযন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।
- মুখগহ্বরের নিচের অংশে জিভের অবস্থান।
- বাগ্যন্ত্রের মধ্যে জিভ সবচেয়ে সচল ও সক্রিয় প্রত্যঙ্গ।
- জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং মুখগহ্বরের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে জিভের স্পর্শের প্রকৃতি অনুযায়ী ধ্বনির বৈচিত্র্য তৈরি হয়।
- মানবদেহের যেসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধ্বনি তৈরিতে সহায়তা করে তাদের বাক প্রত্যঙ্গ বলা হয়।
- বাক প্রত্যঙ্গগুলোকে একসঙ্গে বলা হয় বাগযন্ত্র।
- বাগযন্ত্রের মধ্যে আছে ফুসফুস, স্বরতন্ত্রী, গলনালি, জিভ, দাঁত, ঠোঁট, নাক, তালু, মাড়ি ইত্যাদি।
মানবদেহে শব্দ মূলত স্বরযন্ত্র বা ভোকাল কর্ডের (Vocal Cord) কম্পনের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। ইংরেজিতে একে Larynx বলা হয়।
জব সলুশন