টপিকঃ বিসিএস প্রশ্ন ব্যাংক
1.
মৌলিক শব্দ কোনটি?
• যে শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন: গোলাপ, নাক, লাল, তিন, গাছ, পাখি, ফুল, হাত ইত্যাদি।
• যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। যেমন: =শীত+ল = শীতল; না (নৌকা) +নাইয়া > মেয়ে; গুরু+ষ্ণ = গৌরব।
2.
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য’ কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল?
এখানে রাধা - কৃষ্ণের প্রণয়কাহিনি রয়েছে। ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রাম থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কার করেন। এটি পাওয়া যায় দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘরের মাচার ওপর থেকে।
3.
উপসর্গের সঙ্গে প্রত্যয়ের পার্থক্য-
যেসব অব্যয় শব্দ বা ধাতুর পূর্বে বসে মূল শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটায় ও নতুন শব্দ গঠন করে তাকে উপসর্গ । অন্যদিকে যেসব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি ধাতু বা শব্দের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে প্রত্যয় বলে। যেমন - কাঁদ্ + অন = কাঁদন এখানে 'অন' প্রত্যয়'। সুতরাং উপরিউক্ত প্রশ্নে (গ) - ই যথার্থ উত্তর।
4.
কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহির উদাহরণ?
যে বহুব্রীহি সমাসে দুটি একরূপ বিশেষ্য দিয়ে এক জাতীয় কাজ বোঝায় তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন: কানে কানে যে কথা = কানাকানি । আরো কয়েকটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস : হাতাহাতি, হাসাহাসি, লাঠালাঠি, কোলাকুলি, চুলাচুলি। অন্যদিকে অজানা, দোতলা ও আশীবিষ যথাক্রমে নঞ্, প্রত্যয়ান্ত ও ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
5.
কোনটি তদ্ভব শব্দ ?
"চাঁদ" শব্দটি একটি তদ্ভব শব্দ। তদ্ভব শব্দ হলো সেই সব শব্দ যা সংস্কৃত ভাষা থেকে উদ্ভূত হয়েছে এবং সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় প্রচলিত হয়েছে। "চাঁদ" শব্দটি সংস্কৃত "চন্দ্র" শব্দ থেকে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা "চাঁদ" হয়েছে।
গগন): "গগন" শব্দটি তৎসম শব্দ। এটি সরাসরি সংস্কৃত "গগন" শব্দ থেকে এসেছে এবং এর রূপের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সূর্য): "সূর্য" শব্দটি তৎসম শব্দ। এটি সরাসরি সংস্কৃত "সূর্য" শব্দ থেকে এসেছে এবং এর রূপের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
নক্ষত্র): "নক্ষত্র" শব্দটি তৎসম শব্দ। এটি সরাসরি সংস্কৃত "নক্ষত্র" শব্দ থেকে এসেছে এবং এর রূপের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
6.
‘সরল’ শব্দের বিপরীতার্থক নয় নিচের কোনটি?
সরল শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ 'গরল' বাদে অপশনের বাকি তিনটিই । তবে এরা ভিন্নার্থে ব্যবহৃত হয় । গরল হলো অমৃত শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ ।
7.
নিচের কোন শব্দে ণত্ব বিধি অনুসারে ‘ণ’-এর ব্যবহার হয়েছে?
'কল্যাণ' 'নিক্কণ' ও 'বিপণি' - শব্দগুলো 'ণ' - এর স্বভাবগত নিয়মে গঠিত হয়েছে। অন্যদিকে প্র, পরি, নির - এ তিনটি উপসর্গের পর 'প' - বর্গের ৫ টি (প, ফ,ব,ভ,ম) বর্ণ থাকলে তারপরে 'ন' ধ্বনি থাকলে তা মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
8.
যার কোন মূল্য নেই,তাকে বাগধারা দিয়ে প্রকাশ করলে কোনটা হয়?
যার কোন মূল্য নেই - এর বাগধারায় প্রকাশ হয় 'ঢাকের বায়া'।
ডাকাবুকা বাগধারার অর্থ - দুরন্ত।
তামার বিষ - অর্থের কুপ্রভাব।
তুলসী বনের বাঘ - ভণ্ড।
9.
‘লাঠালাঠি’- এটি কোন সমাস?
লাঠালাঠি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস।
ক্রিয়ার পারস্পরিক অর্থে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস হয়। এ সমাসে পূর্বপদে 'আ' এবং উত্তর পদে 'ই' যুক্ত হয়। যেমন: হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি, লাঠিতে লাঠিতে যে লড়াই = লাঠালাঠি।
10.
‘তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?’ এই প্রবাদটির রচয়িতা কে?
বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের (১৮৩৮ - ১৮৯৪) বিখ্যাত উপন্যাস 'কপালকুন্ডলা' (১৮৬৬) । উপন্যাসটিতে কিছু বিখ্যাত উক্তি আছে। যেমন - 'তুমি অধম' তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন? 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ? ইত্যাদি।
12.
‘তাপ’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ-
তাপ শব্দের অর্থ - উত্তাপ, ভাপ, গরম, উষ্ণ, উষ্মতা, উষ্ণতা, আঁচ ইত্যাদি।
শৈত্য শব্দের অর্থ - বাষ্প, আর্দ্র, স্যাঁতসেঁতে, ক্লেদ ইত্যাদি।
তাই তাপ শব্দের বিপরীত শব্দ শৈত্য।
13.
'অন্তর্ভুক্তিমূলক' শব্দ উচ্চারণে কয়টি অক্ষর পাওয়া যায়?
'অন্তর্ভুক্তিমূলক' শব্দটিকে উচ্চারণ অনুযায়ী ভাঙলে ৬টি অক্ষর বা দল পাওয়া যায়: অन् (on) - তোর্ (tor) - ভুক্ (bhuk) - তো (to) - মূ (mu) - লোক্ (lok)।
14.
কোনটি শুদ্ধ?
সৌজন্য: (বিশেষ্য পদ) ভদ্রতা, অমায়িকতা, শিষ্ট - ব্যবহার।
15.
শুদ্ধ বানানের গুচ্ছ কোনটি?
প্রশ্নে প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে -
অপশন (ক) তে প্রদত্ত ৩টি শব্দ - শিরশ্ছেদ, দরিদ্রতা, সমীচীন - এর বানানই শুদ্ধ।
অপশন (খ) এর দারিদ্র্য বানান শুদ্ধ হলেও অন্য দুটি বানান অশুদ্ধ।
অপশন (গ) দরিদ্রতা শুদ্ধ হলেও অন্য দুটি বানান অশুদ্ধ।
অপশন (ঘ) দরিদ্রতা ও সমীচীন - শুদ্ধ হলেও অন্য বানানটি অশুদ্ধ।
17.
‘উল্লাস’ এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম অনুযায়ী ত/দ এর পর ল থাকলে ত/দ এর স্থলে ল হয়; তাই উৎ + লাস = উল্লাস।
18.
“মিথ্যাবাদীকে সবাই অপছন্দ করে”-বাক্যটিকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলে হয়–
না - সূচক বাক্যে না , নয়, নহে, নি ,নেই , নাহি, নাই ইত্যাদি নঞর্থক অব্যয় ব্যবহার করতে হবে। না - বাচক ক্রিয়া ও না - বাচক শব্দ বা না - বাচক অব্যয় মিলে বাক্যে দু'বার ব্যবহার করে অস্তিবাচক বা হ্যাঁ - সূচক ভাব বজায় রাখতে হবে। মিথ্যাবাদীকে সবাই অপছন্দ করে ' - বাক্যটির নেতিবাচক রুপ 'মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না।'
19.
‘অর্ধচন্দ্র’ এর অর্থ—
'অর্ধচন্দ্র' - এর অর্থ গলা ধাক্কা দেয়া।
অর্ধচন্দ্র (বিশেষ্য পদ) শব্দ টির অর্থ - আধখানা চাঁদ, গলাধাক্কা, প্রহার।
20.
'গড্ডলিকা প্রবাহ' বাগধারার 'গড্ডল' শব্দের অর্থ কী?
গড্ডলিকা প্রবাহ' বাগধারাটির 'গড্ডল' শব্দের অর্থ হলো 'ভেড়া'। এই বাগধারাটি অন্ধ অনুকরণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
21.
পূর্ববঙ্গীয় উচ্চারণে 'স্মরণ' শব্দের ক্ষেত্রে কোনটি ঘটে?
পূর্ববঙ্গীয় উচ্চারণে 'স্মরণ' শব্দের শুরুতে নাসিক্য উচ্চারণ হয় না এটি একটি সাধারণ প্রবণতা।
22.
'মা তাঁর সন্তানদের ভালোবাসেন'- এটি কোন ধরণের বাক্য?
যে বাক্য দ্বারা কোনো কিছু থাকা ঘটা বা করা বোঝায় এবং যাতে কোনো নেতিবাচক অর্থ থাকে না তাকে অস্থিবাচক বা হ্যাঁ-বোধক বাক্য বলে। এটি একটি সাধারণ ইতিবাচক বিবৃতি।
23.
“প্রোষিতভর্তৃকা”- শব্দটির অর্থ কী?
ভর্ৎসনাপ্রাপ্ত তরুণী / নারী - ভর্ৎসিতা
যে নারীর স্বামী বিদেশে অবস্থান করে - প্রোষিতভর্তৃকা
যে পুরুষের স্ত্রী বিদেশে থাকে - প্রোষিতপত্নীক/ প্রোষিতভার্য
যে বিবাহিতা / অবিবাহিতা নারী পিত্রালয়ে অবস্থান করে - চিরন্ট
24.
‘সূর্য’– এর প্রতিশব্দ-
সূর্য /বিশেষ্য পদ/ ভাস্কর, আদিত্য, রবি, তপন, ভানু, দিবাকর, মার্তন্ড, বিভাবসু, মিত্র, মিহির, পূষা, প্রভাকর।
25.
‘Attested’-এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
Attested এর বহুল ব্যবহৃত বাংলা পারিভাষিক শব্দ হচ্ছে 'সত্যায়িত'। সূত্র হিসেবে বাংলা একাডেমী English to Bengali dictionary উল্লেখ করা যেতে পারে। ড. শাহজান মনিরের বাংলা ব্যাকরণে attestation শব্দটির বাংলা দেয়া হয়েছে 'সত্যায়ন'।
26.
“পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পরিবেশ এত অপরিস্কার”। —বাক্যটির নিম্নরেখ পদে ষ/স ব্যবহারে—
‘পুরষ্কার’ ও ‘অপরিস্কার’ শব্দ দুটোর শুদ্ধরূপ যথাক্রমে ‘পুরস্কার’ ও ‘অপরিষ্কার’। সুতরাং প্রশ্নে প্রদত্ত দুটো শব্দই অশুদ্ধ।
27.
কোন বানানটি শুদ্ধ
শুচিস্মিতা = যে নারীর হাসি পবিত্র।
28.
কোনটি 'ভাত' এর প্রতিশব্দ?
ভাত' শব্দের সরাসরি প্রতিশব্দ হলো 'অন্ন'। 'তণ্ডুল' শব্দের অর্থ হলো চাল (ভাত রান্নার কাঁচামাল)।
29.
বাংলা লিপির উৎস কী?
প্রাচীন ভারতীয় লিপি দুটি। ব্রাহ্মী ও খরোষ্ঠী। ব্রাহ্মী লিপি তিন ভাগে বিভক্ত। পুর্বী লিপি, মধ্য ভারতীয় লিপি এবং পশ্চিমা লিপি। পুর্বী লিপির কুটিল রূপ হতে বাংলা লিপির উদ্ভব।
30.
বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ কয়টি?
বাংলা বর্ণমালায় মোট ৫০ টি বর্ণ আছে। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১১ টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি। স্বরধ্বনি দ্যোতক সাংকেতিক চিহ্নকে বলা হয় স্বরবর্ণ। যেমন - অ, আ, ই ইত্যাদি। অন্যদিকে ব্যঞ্জনধ্বনি দ্যোতক সাংকেতিক চিহ্নকে বলা হয় ব্যঞ্জনবর্ণ। যেমন - ক, খ, গ ইত্যাদি । উল্লেখ্য, বাংলা বর্ণমালার ৫০ টি বর্ণের মধ্যে ৩২ টিতে পূর্ণমাত্রা, ৮ টিতে অর্ধমাত্রা ও ১০ টিতে কোনো মাত্রা ব্যবহৃত হয় না।
31.
রবীন্দ্রনাথ কোন কারক বাদ দিতে চেয়েছিলেন?
- বাংলায় সম্প্রদান কারকের প্রয়োজন নেই, এ কথা রবীন্দ্রনাথ অনেক আগেই বলেছিলেন।
- নতুন ব্যাকরণে সম্প্রদান কারক বাদ দেওয়া হয়েছে।
- আবার সম্বন্ধ কারক বলে নতুন কারক যুক্ত করা হয়েছে।
- তাই আগের মতোই কারক ছয় প্রকারই আছে।
32.
'যে আলোতে কুমুদ ফোটে' - এককথায় কী হবে?
'কুমুদ' বা শাপলা ফুল চাঁদের আলোতে ফোটে। চাঁদের আলোকে 'কৌমুদী' বা 'জ্যোৎস্না' বলা হয়। সুতরাং, যে আলোতে কুমুদ ফোটে তা হলো কৌমুদী।
33.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ কোনটি?
- বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের অন্বয় সাধনের জন্য শব্দের সঙ্গে যে সকল বর্ণ যুক্ত হয় তাদেরকে বিভক্তি বলে।
- বাংলা শব্দ বিভক্তিগুলো হলো: শূন্য (০) বিভক্তি, এ, তে, কে, রে, র।
- সরোবরে শব্দটিতে 'এ' বিভক্তি যুক্ত থাকায় এটিই বিভক্তিযুক্ত শব্দ।
34.
মরি মরি! কি সুন্দর প্রভাতের রূপ ' ---- বাক্যে ' মরি মরি' কোন শ্রেণীর অব্যয়?
”মরি মরি! কি সুন্দর প্রভাতের রূপ” - বাক্যে ”মরি মরি” অনন্বয়ী শ্রেণির অব্যয়।
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্যদের সঙ্গে কোন সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমন উচ্ছাস প্রকাশের মরি মরি! কি সুন্দর প্রভাতের রূপ! এছাড়া স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি সম্মতি প্রকাশে, যন্ত্রণা প্রকাশে, সম্ভাবনায় ইত্যাদিতে অনন্বয়ী অব্যয় হয়।
35.
‘ঠোঁট-কাটা’ বলতে কী বোঝায়?
• ‘ঠোঁট-কাটা’ শব্দের অর্থ কাউকে কোনো কিছু বলতে দ্বিধাবোধ করে না এমন, স্পষ্টবক্তা বা স্পষ্টবাদী।
• ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলতে বোঝায় একচোখা বা এক পক্ষের প্রতি অনুরক্ত।
36.
বচন অর্থ কি?
বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সংখ্যার ধারণা প্রকাশের উপায় বা সংখ্যাত্মক প্রকাশের উপায়কে বচন বলে। অর্থাৎ বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ যে ব্যক্তি, বস্ত্ত বা প্রাণীর প্রতিনিধিত্ব করছে বা বোঝাচ্ছে, সেই ব্যক্তি, বস্ত্ত বা প্রাণীর সংখ্যা, অর্থাৎ সেটি একসংখ্যক না একাধিক সংখ্যাক, তা বোঝানোর পদ্ধতিকেই বচন বলে।
37.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
38.
বাংলা অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ ব্যাকরণের কোন অংশের অন্তর্ভুক্ত করা যায়?
অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অব্যয়ের অর্থই প্রধান থাকে। যেমন 'উপকূল' (কূলের সমীপে)। এখানে 'উপ' একটি উপসর্গ যা অব্যয়ের কাজ করে। এই সমাস গঠন ও অর্থ বিচার ব্যাকরণের 'কারক' বা পদ প্রকরণের সাথে সম্পর্কিত কারণ এটি পদের সম্পর্ক নির্ধারণ করে।
39.
'বিরাট গরু-ছাগলের হাট'- ব্যানারে লেখা এই শিরোনামকে অপপ্রয়োগ বলা যায় না কেন?
এখানে 'বিরাট' শব্দটি 'হাট' কে বিশেষিত করছে অর্থাৎ হাটটি যে আয়তনে বড় তা বোঝাচ্ছে। তাই এটি অপপ্রয়োগ নয়।
40.
বিভক্তি যুক্ত শব্দ বা ধাতুকে বলে—
পদ : বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দকে পদ বলে।
বাক্যে যখন শব্দ ব্যবহৃত হয়, তখন শব্দগুলোর মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টির জন্য প্রতিটি শব্দের সঙ্গে কিছু অতিরিক্ত শব্দাংশ যুক্ত হয়। এগুলোকে বলে বিভক্তি। যে সব শব্দে আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় কোন বিভক্তি যুক্ত হয়নি, সে সব শব্দেও একটি বিভক্তি যুক্ত হয়। একে প্রথমা বিভক্তি বা শূণ্য বিভক্তি বলে। ব্যাকরণ অনুযায়ী কোন শব্দ বাক্যে ব্যবহৃত হলে তাতে বিভক্তি যুক্ত হতে হয়। আর তাই কোন শব্দ বাক্যে বিভক্তি না নিয়ে ব্যবহৃত হলেও তার সঙ্গে একটি বিভক্তি যুক্ত হয়েছে বলে ধরে নিয়ে তাকে শূণ্য বিভক্তি বলা হয়।
অর্থাৎ, বিভক্তিযুক্ত শব্দকেই পদ বলে।
পদের প্রকারভেদ : পদ প্রধানত ২ প্রকার - সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ।
41.
নিচের কোন বাক্যটি প্রয়োগগত দিক থেকে শুদ্ধ?
বাকী বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ ঃ
অশুদ্ধ বাক্য: আমি কারও সাতেও নেই, সতেরােতেও নেই।
শুদ্ধ বাক্য: আমি কারও সাতেও নেই, পাঁচেও নেই।
অশুদ্ধ বাক্য: আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।
শুদ্ধ বাক্য: আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত।
অশুদ্ধ বাক্য: সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলাম ।
শুদ্ধ বাক্য: সারা জীবন ভূতের বেগার খেটে মরলাম ।
42.
লিঙ্গান্তর হয় না এমন শব্দ কোনটি?
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ - কবিরাজ, যোদ্ধা , ঢাকী , কৃতদার ,অকৃতদার , পুরোহিত , কেরানি, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ,সরকার , পীর , দরবেশ , মওলানা যোদ্ধা, সেনাপতি , দলপতি , বিচারপতি , জ্বীন, জামাতা ইত্যাদি। সাহবে - বিবি, সঙ্গী - সঙ্গিনী, বেয়াই - বেয়াইন ।
43.
‘তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!'—বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে?
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন: তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!'
প্রদত্ত উদাহরণে ‘তো’ হলো অনন্বয়ী অব্যয়, যা অন্য কোনো বাক্য বা পদের সাথে সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে আবেগসূচক ভাব প্রকাশ করেছে।
44.
কাঁচি কোন ধরনের শব্দ?
তুর্কি শব্দ সহজে মনে রাখার কৌশল নিচের বাক্য গুলো মনে রাখুনঃ
১। সুলতান খাঁর বোচকা বাবুর্চিকে দেখে উজবুক মনে হলেও , কোর্মাটা বেশ বানায় । (সুলতান, খাঁ, বোচকা, বাবুর্চি, উজবুক , কোর্মা)
২। ছুরি , কাচি যতই চকমক করুক, বন্ধুক বারুদের তোপের সামনে কি আর টেকে ? কিছু লাশ পরতেই কুলিরা কাবু হয়ে পড়ল । (ছুরি , কাচি , চকমক ,বন্দুক, বারুদ, তোপ, লাশ , কুলি, কাবু )
৩। তোশক চুরির দায়ে ছেমড়া চাকরের বাবাকে কোর্তা পরা দারোগা ধরে নিয়ে গেলেও বেগম সাহেব পরে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনলেন । (তোশক , ছেমড়া, চাকর, বাবা, কোর্তা,দারোগা ,বেগম,মুচলেকা)
45.
নিচের কোনটি ‘অগ্নি’র সমার্থক শব্দ নয়?
অগ্নি'র সমার্থক শব্দগুলো: অনল, বহ্নি, হুতাশন,পাবক, বৈশ্বানর, আগুন, দহন, সর্বভুক , শিখা প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
আবীর /বিশেষ্য পদ/ ফাগ, একপ্রকার রক্তবর্ণ চূর্ণ বিশেষ যাহা হোলি বা বসন্তোৎসবে পরস্পরকে রঞ্জিত করিবার জন্য ব্যবহার করা হয়।
46.
' তার বয়স বেড়েছে কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি' ---- এটা কোন ধরনের বাক্য ?
যৌগিক বাক্যে দুই বা ততোধিক সরল বা জটিল বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য তৈরি করে। যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো ও, এবং, অথবা,কিন্তু,বরং,তথাপি প্রভৃতি অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে।
47.
“এ যে আমাদের চেনা লোক”-বাক্যে ‘চেনা’ কোন পদ?
যে পদ দ্বারা বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে। এ বাক্যে ‘চেনা’ শব্দটি দ্বারা লোকটির পরিচিতি বা অবস্থা প্রকাশ করছে, তাই এটি বিশেষণ পদ।
48.
ধ্বনি- পরিবর্তনের নিয়মে কোনটি বর্ণ বিপর্যয়ের দৃষ্টান্ত?
শব্দের মধ্যবর্তী দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি পরস্পর স্থান বিনিময় বা অদলবদল করে উচ্চারিত হলে তখন তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। অর্থাৎ উচ্চারণের সময় মধ্যবর্তী দুটি ব্যঞ্জনধ্বনির স্থান পরিবর্তন করাকেই ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ হলো: চাকরি ˃ চারকি, লাফ ˃ ফাল, বাক্স ˃ বাস্ক, রিক্সা ˃ রিস্কা, পিশাচ ˃ পিচাশ, নকশা ˃ নশকা ইত্যাদি।
49.
বাংলা ভাষায় কয়টি খাঁটি বাংলা উপসর্গ রয়েছে?
বাংলা ভাষায় খাঁটি বাংলা উপসর্গ রয়েছে ২১ টি। এগুলো হচ্ছে - অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আব, আন, ইতি, উন, কদ, কু,নি, পাতি, বি,ভর, রাম, স, সা, সু,হা। এবং সংস্কৃত উপসর্গের সংখ্যা ২০ টি।
50.
তুমি তাে ভারি সুন্দর ছবি আঁক!’- বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে?
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন: তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!'
প্রদত্ত উদাহরণে ‘তো’ হলো অনন্বয়ী অব্যয়, যা অন্য কোনো বাক্য বা পদের সাথে সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে আবেগসূচক ভাব প্রকাশ করেছে।