কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে?
বঙ্গকামরুপী ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।
খ্রিস্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দ থেকে বাংলায় হিন্দু ব্রাহ্মণগণ সংস্কৃত ভাষার চর্চা করত,স্থানীয় বৌদ্ধরা প্রাকৃত ভাষার কোন কোন রূপে কথা বলত, যাকে ডঃ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মাগধী প্রাকৃতের পূর্ব রূপ বা ভ্যারাইটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময়, বাংলা ছিল হিন্দু যাজক বা পুরোহিতদের জন্য সংস্কৃত সাহিত্যের একটি কেন্দ্র, যা স্থানীয়দের কথ্য ভাষাকে প্রভাবিত করে। প্রথম সহস্রাব্দে বাংলা যখন মগধ রাজ্যের একটি অংশ ছিল তখন মধ্য ইন্দো-আর্য উপভাষাগুলি বাংলায় প্রভাবশালী ছিল। এই উপভাষাগুলিকে মাগধী প্রাকৃত বলা হয় এবং এটি আধুনিক বিহার, বাংলা ও আসামে কথিত হত। এই ভাষা থেকে অবশেষে অর্ধ - মাগধী প্রাকৃতের বিকাশ ঘটে। প্রথম সহস্রাব্দের শেষের দিকে অর্ধ - মাগধী থেকে অপভ্রংশের বিকাশ ঘটে। সময়ের সাথে সাথে বাংলা ভাষা একটি স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে বিকশিত হয়।
Related Questions
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ তার ‘বাঙ্গাল ভাষার ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থে লিখেছেন, গৌড়ীয় প্রাকৃতের পরবর্তী স্তর গৌড়ীয় অপভ্রংশ থেকে ভাষার উৎপত্তি ।
উজবুক' শব্দটি তুর্কি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে। তুর্কি ভাষা থেকে আসা আরো কয়েকটি শব্দ হলো: চকমক, তালাশ, বাবুর্চি ,সওগাত,খোকা, বাবা ইত্যাদি।
" বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে মাগধী প্রাকৃত থেকে" - এ মতের প্রবক্তা ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ। তিনি " The Origin and Development of the Bengali Language' (ODBL)" নিয়ে গবেষণা করেন এবং পরবর্তীতে মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার জন্ম এই মতবাদ প্রকাশ করেন।
অপভ্রংশ বলতে মধ্য ইন্দো-আর্য ভাষার (তথা প্রাকৃত ও পালি ভাষার) পরবর্তী ঐতিহাসিক ধাপকে বোঝায়। সংস্কৃত ব্যাকরণবিদ পতঞ্জলির মহাভাষ্য গ্রন্থে সর্বপ্রথম "অপভ্রংশ" শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত কিছু অশিষ্ট শব্দকে নির্দেশ করার জন্য শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।
ভাষাতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য প্রত্যক্ষভাবে অপভ্রংশ (বিশেষ করে মাগধী অপভ্রংশ)-এর কাছে ঋণী।
প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে প্রাকৃত ভাষার উদ্ভব হয়। পরবর্তীতে এই প্রাকৃত ভাষার পরিবর্তিত ও বিকৃত রূপ হিসেবে অপভ্রংশ এবং অবহট্ট ভাষার সৃষ্টি হয়। আর এই অবহট্ঠ বা অবহট্ট । রূপ থেকেই কালক্রমে আধুনিক বাংলা ভাষার উৎপত্তি ঘটেছে। বাংলা ভাষার বিকাশের ধাপগুলো সাধারণত নিম্নরূপ: বৈদিক ও সংস্কৃত ভাষা: বাংলা ভাষার মূল উৎস। প্রাকৃত ভাষা: সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা, যার মধ্যে মাগধী প্রাকৃত প্রধান। অবহট্ঠ বা অবহট্ট : প্রাকৃতের আরও পরিবর্তিত রূপ। অপভ্রংশ থেকেই বাংলা ভাষা একটি স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ শুরু করে। বাংলা সাহিত্য সৃষ্টির শুরুতেও অপভ্রংশের প্রভাব দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ-এর ভাষা মূলত অপভ্রংশ ওবাংলা ভাষার মিশ্রণে তৈরি।
- প্রাকৃত বা প্রাকৃত ভাষা কথাটির তাৎপর্য হলো প্রকৃতির অর্থাৎ জনগণের কথ্য ও বোধ্য ভাষা।
- এক পর্যায়ে এ প্রাকৃত ভাষাই ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রভাবে, কথ্য ভাষার উচ্চারণের বিভিন্নতা অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করে।
- এ প্রাকৃত ভাষাই আঞ্চলিক বিভিন্নতা নিয়ে বিভিন্ন নামে চিহ্নিত হয়। যেমন - মাগধী প্রাকৃত,মহারাষ্ট্রী প্রাকৃত,শৌরসেনী প্রাকৃত ইত্যাদি।
- মাগধি প্রাকৃতের অপভ্রংশ থেকেই কালক্রমে বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে উৎপত্তি লাভ করে বাংলা ভাষা।
জব সলুশন