সাধু ভাষা ও চলিত ভাষার পার্থক্য-
সাধু ভাষা: বাংলা ভাষায় সংস্কৃত শব্দ সম্পদ, ক্রিয়া ও সর্বনামের পূর্ণরূপ এবং কিছু ব্যাকরণসিদ্ধ উপাদান ব্যবহার করে ইংরেজি গদ্য সাহিত্যের পদবিন্যাস প্রণালির অনুকরণে পরিকল্পিত যে নতুন সর্বজনীন গদ্যরীতি বাংলা সাহিত্যে প্রবর্তিত হয়, তাকে সাধু ভাষা বলে।
চলিত ভাষা: তদ্ভব শব্দ, ক্রিয়া ও সর্বনামের সংক্ষিপ্ত রূপ এবং লেখকের মনোভাব অনুযায়ী পদবিন্যাস প্রণালির ব্যবহারসহ যে স্বচ্ছন্দ, চটুল ও সর্বজনীন সাহিত্যিক গদ্যরীতি মুখের ভাষার আদলে গড়ে উঠেছে, তার নাম চলিত ভাষা।
Related Questions
বক্তৃতা ও সংলাপের জন্য চলিত ভাষা বেশি ব্যবহার করা হয়। চলিত ভাষারীতি মানুষের মুখের ভাষার কাছাকাছি এবং এটি সাবলীল। তাই প্রাঞ্জল ও আকর্ষণীয় বক্তৃতা দেওয়ার জন্য এবং নাটক বা দৈনন্দিন জীবনের সংলাপ লেখার ক্ষেত্রে চলিত বা প্রমিত রূপটিই সবচেয়ে উপযোগী। পক্ষান্তরে, সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর এবং এটি ভাষণ বা সংলাপের জন্য অনুপযোগী।
চলিত ভাষার প্রধান ও প্রযোজ্য বৈশিষ্ট্য হলো এটি পরিবর্তনশীল এবং এটি সাধারণ মানুষের মুখের ভাষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠায় অত্যন্ত সর্বজনগ্রাহ্য, মার্জিত ও গতিশীল।
বাংলা ভাষার চলিত রীতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি কৃত্রিমতা বর্জিত। অর্থাৎ, এই রীতিটি মানুষের মুখের স্বাভাবিক ও দৈনন্দিন বুলির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এর শব্দচয়ন ও বাক্যগঠন অত্যন্ত সহজ, সাবলীল ও প্রাণবন্ত। চলিত রীতির অন্যান্য প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
সর্বজনীনতা: এটি অত্যন্ত সহজবোধ্য এবং সব মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য।
সংক্ষিপ্ত রূপ: এতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহৃত হয় (যেমন: 'করিতেছে'-এর বদলে 'করছে', 'তাহারা'-এর বদলে 'তারা')।
শব্দভাণ্ডার: এতে তৎসম (সংস্কৃত) শব্দের ব্যবহার কম থাকে এবং তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের আধিক্য দেখা যায়।
গতিশীলতা: চলিত রীতি সবসময় পরিবর্তনশীল ও গতিশীল।
- সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎপন্ন ভাষাকে সাধু ভাষা হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে চলিত ভাষা বলে।
- সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য হলো: সাধু রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল কিন্তু চলিত রীতি তদ্ভব শব্দবহুল ও পরিবর্তনশীল।
- সাধু রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে। অপরদিকে, চলিত রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।
- সাধু রীতিতে সর্বনাম, ক্রিয়া ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহার করা হয়। অপরদিকে, চলিত রীতিতে সর্বনাম, ক্রিয়া ও অনুসর্গের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করা হয়।
- যেমন: অতঃপর তাহারা চলিয়া গেল (সাধু)। তারপর তারা চলে গেল (চলিত)।
'তৎসম' শব্দের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয় সাধু রীতিতে। তৎসম (সংস্কৃত থেকে আগত) শব্দগুলো সাধারণত গুরুগম্ভীর হয়, যা সাধু ভাষারীতিকে সমৃদ্ধ ও সুশৃঙ্খল করে
উনিশ শতকে বাংলা ভাষার যে লিখিত রুপ গড়ে উঠে তার নাম দেওয়া হয় 'সাধু ভাষা'।
সাধু ভাষার বৈশিস্ট্য-
- সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণরীতি অনুসরণ করে।
- সাধু রীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতায় অনুপযোগী অর্থাৎ বক্তৃতা ও নাটকের সংলাপের জন্য সাধু ভাষা উপযোগী নয়।
- সাধু রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি অনুসরণ করে।
- সাধু ভাষার একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি লেখ্য ভাষা।
জব সলুশন