বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্ন মোট কয়টি ?
বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী বাংলা ভাষায় মোট ১২টি যতি বা ছেদ চিহ্ন (বিরাম চিহ্ন) রয়েছে। বাক্যের অর্থ পরিষ্কার করতে এবং লেখার সময় বিরতি বোঝাতে এই চিহ্নগুলো ব্যবহার করা হয়।
১২টি যতি চিহ্নের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ (।) – থামার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি
কমা (,) – এক বলতে যে সময় লাগে
সেমিকোলন (;) – কমার দ্বিগুণ সময়
প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?)
বিস্ময়সূচক চিহ্ন (!)
কোলন (:) – এক বলার দ্বিগুণ সময়
কোলন ড্যাশ (:-)
ড্যাশ (—)
হাইফেন (-)
উদ্ধরণ চিহ্ন বা ইনভার্টেড কমা (“ ”)
লোপ চিহ্ন বা ইলেক (') – থামার প্রয়োজন নেই
বন্ধনী চিহ্ন ( ), { }, [ ] – প্রধানত প্রথম বন্ধনী ( ) বেশি ব্যবহৃত হয়
Related Questions
পাশাপাশি দুটি ধ্বনি বা বর্ণের মিলনকে সন্ধি বলে। যেমন: বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়। ব্যাকরণে সন্ধির প্রধান কাজ হলো কথা বলার সময় উচ্চারণ সহজ করা এবং ভাষার ধ্বনিগত মাধুর্য বৃদ্ধি l
শিরোনামের প্রধান অংশ প্রাপকের ঠিকানা । একটি পত্রে প্রধানত দুটি অংশ থাকে। যথা : ১. পত্রগর্ভ বা অন্তর্ভাগ ২. পত্রের বহির্ভাগ বা শিরোনাম । এটি পত্রের বাইরের অংশ, এতে পত্র প্রাপকের নাম ঠিকানা লিপিবদ্ধ থাকে এবং সে অনুযায়ী পত্রটি প্রাপকের হাতে পৌঁছায়।
'গিন্নি' একটি অর্ধ-তৎসম শব্দ। সংস্কৃত শব্দ 'গৃহিণী' থেকে এটি এসেছে। সংস্কৃত 'গৃহিণী' শব্দটি প্রাকৃত ভাষার মাধ্যমে কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে গিন্নি বা গৃহিণী-তে রূপ নেয়। অর্ধ-তৎসম মানে হলো আধা-সংস্কৃত। যেসকল তৎসম শব্দ প্রাকৃতের প্রভাবে কিছুটা বিকৃত হয়ে বাংলায় ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে অর্ধ-তৎসম বলে। অর্ধ-তৎসম শব্দের উদাহরণ: গৃহিণী \গিন্নি,শ্রাদ্ধ \ছেরাদ্দ,সূর্য \সুজ্যি,বৈষ্ণব \বোষ্টম,পিত্তল \পিতল l
সমাসের রীতি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত। সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত এই সমাসের রীতিটি বাংলা ব্যাকরণের 'রূপতত্ত্ব' অংশে আলোচিত হয়। সমাসের আক্ষরিক অর্থ হলো 'সংক্ষেপণ', 'মিলন', বা 'একাধিক পদের একপদীকরণ' (যেমন: 'সিংহ চিহ্নিত আসন' = 'সিংহাসন')।
”মনস্তাপ” - এর সন্ধি বিচ্ছেদ মনোঃ + তাপ। বিসর্গের পর অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা মহাপ্রাণ তালব্য ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গের স্থলে তালব্য শিসধ্বনি হয়। অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা মহাপ্রাণ মূর্ধন্য ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গ স্থলে মূর্ধন্য শিস ধ্বনি হয়, অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা মহাপ্রাণ দন্ত্য ব্যঞ্জন এর স্থলে দন্ত্য শিস ধ্বনি হয়।
শুদ্ধ বানান হলো শিরশ্ছেদ (শ-ই-র-শ্-ছ-এ-দ)। এটি বিসর্গ সন্ধির নিয়ম অনুযায়ী গঠিত একটি শব্দ। সন্ধি বিচ্ছেদটি হলো: শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ l নিয়ম অনুযায়ী, বিসর্গ এর পর যদি 'ছ' থাকে, তবে বিসর্গ লোপ পেয়ে তার স্থলে একটি 'শ্ছেদ' যুক্ত হয়। তাই সঠিক শব্দ লিখতে সবসময় শ্ছেদ ব্যবহার করতে হবে। শিরোচ্ছেদ, শিরচ্ছেদ বা অন্য কোনো বানানটি ব্যাকরণগতভাবে সঠিক নয়।
জব সলুশন