যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী। সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।' কবিতাংশটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
পঙক্তিটি আবদুল হাকিমের ‘নূরনামা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত ‘বঙ্গবাণী’ কবিতার। মধ্যযুগে বাঙালি মুসলমানগণ মাতৃভাষা বাংলাকে নিজেদের মনে না করে ফারসি - আরবি - উর্দুকে আপন ভাষা মনে করতো। এই ধরনের পরভাষা প্রীতিকে আঘাত করার জন্য কবি এ ধরনের পঙক্তি রচনা করেন।
Related Questions
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন/ প্রথম কাব্য- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন হল বড়ু চণ্ডীদাস রচিত একটি মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্য।
- এটি আদি মধ্যযুগীয় তথা প্রাক্-চৈতন্য যুগে বাংলা ভাষায় লেখা একমাত্র আখ্যানকাব্য।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের একটি গোয়ালঘর থেকে এই কাব্যের খণ্ডিত পুথিটি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁরই সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে পুথিটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের মূল উপজীব্য রাধা ও কৃষ্ণের প্রণয়কাহিনি।
- কাব্যের প্রধান তিন চরিত্র রাধা, কৃষ্ণ ও বড়ায়ি।
- উল্লেখ্য, মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন/শ্রেষ্ঠ ফসল- বৈষ্ণব পদাবলি।
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন / আদি নিদর্শন / আদি গ্রন্থ / প্রাচীনতম পদ সংকলন / বাংলা ভাষার প্রাচীনতম সাহিত্য / বাংলা সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ - চর্যাপদ।
শূন্যপুরাণ বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্যকর্ম। এর রচয়িতা রামাই পন্ডিত।
- এটি একটি চম্পুকাব্য, যাতে পদ্য ও গদ্য উভয়ই মিশ্রিত রয়েছে।
- শূন্যপুরাণের রচনাকাল ১৪শ শতাব্দীর মধ্যভাগে ধারণা করা হয়।
- এটি হিন্দু দেবতা শিবের জীবন ও কর্মকীর্তি নিয়ে রচিত একটি ধর্মীয় মহাকাব্য।
- শূন্যপুরাণ বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রচনা। এই যুগে বাংলা সাহিত্যে হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রভাব ব্যাপকভাবে দেখা যায়।
- শূন্যপুরাণে রামাই পন্ডিত শিবের জীবন ও কর্মকীর্তিকে বর্ণনা করেছেন একটি কল্পিত দ্বীপ শূন্যপুরের পটভূমিতে।
- কাব্যটিতে পদ্য ও গদ্য উভয়ই ব্যবহার করা হয়েছে। পদ্যগুলি মূলত শিবের গুণগান ও বীরত্বের বর্ণনা করে, যখন গদ্য অংশগুলি কাহিনী বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়।
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
- এর বিষয়বস্তু হলো বৌদ্ধ ধর্মমতের সাধন ভজনের তত্ত্বপ্রকাশ।
- এর কবিরা ছিলেন সহজঘানী বৌদ্ধ।
- প্রাচীন বাংলা ভাষার চর্যাপদের মোট ৫০ টি পদের ২৩ জন কবির নাম পাওয়া যায়।
- চর্যাপদে আরও একজন পদকর্তার নাম আছে, কিন্তু তার পদটি নেই। সেটি ধরলে চর্যার পদ সংখ্যা ৫১ এবং কবি ২৪ জন।
- তবে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থ 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে ২৩ জন কবির নাম আছে।
- আর সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' গ্রন্থে ২৪ জন কবির কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেনঃ
» কাহ্নপা - ১৩টি
» ধর্মপা - ১টি
» ঢেণ্ডণপা - ১টি
» ডোম্বিপা - ১টি
» জয়নন্দীপা - ১টি
» কঙ্কণপা - ১টি
» কম্বলাম্বরপ - ১টি
» তাড়কপা - ১টি
» তন্ত্রীপা - ১টি
» বীণাপা - ১টি
» বুরুপা - ১টি
» কুক্কুরীপা - ৩টি
» মহীধরপা - ১টি
» শবরপা - ২টি
» শান্তিপা - ২টি
» আর্যদেবপা ১টি
» ভুসুকুপা - ৮টি
» ভাদেপা - ১টি
» লুইপা- ২ টি
» দারিকাপা - ১টি
» শরহপা - ৪টি
নিহিতার্থ
নিহিতার্থ
নদী
শৈবলিনী, তরঙ্গিনী, গাঙ(২৩বিসিএস)
নদী
মন্দাকিনী, গিরি, নিঃস্রাব, সমুদ্রকান্তা, কল্লোলিনী
নদী
সমুদ্রবল্লভা, সরিৎ(২৩বিসিএস)
নদী
গিরি নিঃস্রাব, তটিনী(২৩বিসিএস)
নদী
কূলবতী, স্রোতোবহা, নির্ঝরিণী(২৩বিসিএস)
নদী
প্ৰবাহিণী, প্রবাহিনী, তরঙ্গিণী, স্রোতস্বিনী(২৩বিসিএস)
- বাংলা একাডেমী ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলা বানানকে নিয়মিত, অভিন্ন ও প্রমিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে একটি নিয়ম দাঁড় করায় যা 'বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম' নামে ছাপিয়ে প্রকাশ করে।
- যার ‘পরিমার্জিত ও সংশোধিত’ সংস্করণ তাঁরা ১৯৯৪-এর জানুয়ারিতে প্রকাশ করেন।
জব সলুশন