'প্রাকৃত' শব্দটির অর্থ-
প্রাকৃত অর্থ স্বাভাবিক, প্রাকৃত ভাষার নামকরণ প্রসঙ্গে কেউ কেউ বলেন যে, এর প্রকৃতি বা মূল হচ্ছে 'সংস্কৃত', তাই প্রকৃতি থেকে উদ্ভূত বলে এর নাম হয়েছে প্রাকৃত। আবার কেউ কেউ বলেন, 'প্রকৃতি' অর্থ সাধারণ জনগণ এবং তাদের ব্যবহূত ভাষাই প্রাকৃত ভাষা, অর্থাৎ প্রাকৃত জনের ভাষা প্রাকৃত ভাষা।
Related Questions
মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি ঘটেছে এ মতবাদ দিয়েছেন স্যার জর্জ গ্রিয়ার্সন। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এ মত সমর্থন করেছেন। কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ভিন্ন মত পোষণ করে বলেন- গৌড়ীয় প্রাকৃত হতে বাংলা ভাষার উদ্ভব।
বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে এককথায় - "ইন্দো ইউরোপীয় →শতম →ইন্দো আর্য →ভারতীয় →প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা →প্রাচীন কথ্য ভারতীয় আর্যভাষা →গৌড়ী প্রাকৃত →গৌড় অপভ্রংশ →বঙ্গ-কামরূপী →বাংলা ও অসমীয়া।"
বাংলা ভাষা নব্য ভারতীয় আর্যভাষা (New Indo-Aryan) গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তবে এর মূল উৎপত্তি হয়েছে আর্যভাষার প্রাচীন স্তর থেকে ধাপে ধাপে পরিবর্তিত হওয়া মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার শেষ রূপ মাগধী প্রাকৃত এবং তার পরবর্তী স্তর অপভ্রংশ ও অবহট্ঠ থেকে।
বৈদিক ভাষা ভারতে আগত আর্য জাতির আদি ভাষা। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ অব্দের দিকে আর্যরা ভারতবর্ষে আসা শুরু করেছিল। উত্তর - পশ্চিম ভারত দিয়ে আগত এই জনগোষ্ঠী খ্রিষ্টপূর্ব ১১০০ অব্দের দিকে বঙ্গদেশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। খ্রিষ্ট - পূর্ব ১০০০ বৎসরের ভিতরে ভারতীয় ইন্দো - ইরানিয়ান ভাষার পরিবর্তন ঘটে।
প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা হলো বৈদিক বা ছান্দস, সংস্কৃত, বৌদ্ধ - সংস্কৃত।
আর্যদের আগমনের পূর্বে এদেশে অনার্য ভাষাভাষী কোল, শবর, পুলিন্দ, হাড়ি, ডোম, চণ্ডাল, প্রভৃতি অন্ত্যজ সম্প্রদায়ের বসবাসের ফলে আঞ্চলিক ভাষাগুলো এসেছে। যারা নৃতাত্বিক বিচারে অস্ট্রো - এশিয়াটিক গোষ্ঠীর অন্তর্গত।
কেন্তুম ভাষা (Kentum languages) ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের একটি শাখা।
- হিত্তিক (Hittite) ছিল একটি প্রাচীন আনাতোলিয়ান ভাষা, যা আনাতোলিয়ায় (আধুনিক তুরস্ক, যা এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত) ব্যবহৃত হত।
- তুখারিক (Tocharian) ছিল একটি ভাষা পরিবার যা তারিম বেসিনে (আধুনিক জিনজিয়াং, চীন, যা এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত) প্রচলিত ছিল।
জব সলুশন