টপিকঃ প্রাইমারি প্রশ্ন ব্যাংক
1.
"আজকে" নগদ কালকে ধার ---বাক্য নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
" 'আজকে' নগদ কালকে ধার " বাক্যের নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকে ২য়া বিভক্তি।
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
অধিকরণ কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি হলো যেমন: মন আমার নাচে রে আজিকে।
2.
'নন্দিত' শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ কি?
নন্দিত শব্দের অর্থ - আনন্দিত, অভিনন্দিত ইত্যাদি। প্রদত্ত শব্দটি একটি বিশেষণ পদ।
নিন্দিত শব্দের অর্থ - অপদস্থ, লাঞ্চিত ইত্যাদি। প্রদত্ত শব্দটি একটি বিশেষণ পদ। তাই নন্দিত শব্দের বিপরীত শব্দ নিন্দিত।
3.
কোনটি শুদ্ধ বানান?...
সঠিক বানান - বাল্মীকি। বাল্মীকি শব্দের অর্থ - রামায়ণকার, ভারতের আদি কবি, মহাতপা ঋষি। প্রদত্ত শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ।
4.
"হাতের" কাজ দেখাও ---বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
বাক্যের ক্রিয়াকে কি উপায় বা কিসের দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর যা পাওয়া যায় তাকে করণ কারক বলে। এখানে প্রশ্নটিই হচ্ছে - কি দ্বারা কাজ? উত্তরে হাতের দ্বারা কাজ। তাই 'হাতের' করণ কারক এবং শব্দের শেষে 'র' থাকায় তা ষষ্ঠী বিভক্তি।
5.
'মনস্তাপ' এর সন্ধি বিচ্ছেদ ----
মনস্তাপ এর সন্ধি বিচ্ছেদ - মনঃ + তাপ । বিসর্গের পর অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা মহাপ্রাণ তালব্য ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গের স্থলে তালব্য শিসধ্বনি হয় , অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা অঘোষ মহাপ্রাণ মূর্ধন্য ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গ স্থলে মূর্ধন্য শিসধ্বনি হয় ,অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা অঘোষ মহাপ্রাণ দন্ত্য ব্যঞ্জনের স্থলে দন্ত্য শিসধ্বনি হয় ।
6.
...কোনটি শুদ্ধ বানান?
- সঠিক বানান 'নিরহংকার'।
- "নিরহংকার" শব্দটি একটি বিশেষণ। এর অর্থ হলো "অহংকারহীন, অহংকারশূন্য।"
- এই শব্দটিতে "অ" একটি কৃৎ প্রত্যয়, যা অভাব বোঝায়। "হংকার" একটি মূল শব্দ, যার অর্থ হলো "অহংকার।"
7.
"চোখ দিয়ে"জল পড়ে। ---বাক্যে উদ্ধৃত শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
অপাদান কারক নির্ণয়ের জন্য ক্রিয়াপদ ধরে কোথা থেকে কি থেকে কিসের থেকে এসব প্রশ্ন করতে হয় এবং তার উত্তরে অপাদান কারক জানতে পারা যায়। যেমন - চোখ দিয়ে জল পড়ে। কোথা থেকে বা দিয়ে - চোখ দিয়ে। কাজেই এটি অপাদান কারক এবং দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক বিভক্তি চিহ্ন থাকায় এটি তৃতীয় বিভক্তি।
8.
'অত্যন্ত' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
সন্ধি বিচ্ছেদ এর নিয়ম অনুসারে, ই - কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই 'য' হয় এবং য - ফলা লেখার সময় পরবর্তী ব্যঞ্জন এর সাথে লেখা হয় সুতরাং অত্যন্ত = অতি + অন্ত।
9.
.. কোনটি শুদ্ধ বানান?
শুদ্ধ বানান মুমূর্ষু ।
মুমূর্ষু এর সঠিক বানান মু + মূ + র্ষু । আর বাকি বানান গুলো - মুমুর্ষু , মূমুর্ষ, মুমূর্ষ ভুল বানান । সুতরাং সঠিক উত্তর (b) ।
10.
কোনটি শুদ্ধ বানান?..
অ, আ ছাড়া অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র এর পরের ষ প্রত্যয়ের 'স' থাকলে তা 'ষ' হয়। যেমন - ভবিষ্যৎ। আর এটি তৎসম শব্দ হওয়ায় এর সাথে ৎ ব্যবহৃত হয়েছে। অন্যদিকে ভবিষ্যৎবাণী শব্দটিতে 'ষ' এরপরে স্বরধ্বনি এবং প বর্গীয় ধ্বনি থাকায় 'ন' না হয়ে 'ণ' হয়েছে।
11.
. কোন বানানটি শুদ্ধ?
বিভীষিকা - [বিশেষ্য পদ] ভয়জনক দৃশ্য, ভয়প্রদর্শন, ভীষণ ভয়, আতঙ্ক।
12.
আকাশ'এর সমার্থক শব্দ নয় ----
আকাশ' এর সমার্থক শব্দ - অম্বর, গগন, নভ, অন্তরীক্ষ। ভুবন এর সমার্থক শব্দ - বিশ্বজগৎ, পৃথিবী, আবাস, দেশ।
13.
"নৌকায়" নদী পার হলাম---বাক্যে উদ্ধত শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
সঠিক উত্তর করণে ৭মী
করণ' শব্দের অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কিসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা - ই করণ কারক। যেমন - নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ - কলম)'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়। ' (উপায় - সাধনা) প্রথমা বা শূণ্য বা অ বিভক্তি: ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া) ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে। কৃষক লাঙ্গল চষছে।
14.
‘অনির্বচনীয়’ শব্দের অর্থ-
'অনিবচনীয়’ শব্দের অর্থ - অনন্য /বিশেষ্য পদ/ অন্যের সহিত সম্বন্ধ বর্জিত। অভিন্ন, অদ্বিতীয়, একমাত্র; অনুপম।
সম্পর্কিত শব্দ:
অননুকরণীয়, অননুমত, অননুমেয়, অননুশীলন ।
15.
বেমানান (মানানোর অভাব) কোন সমাস?
পূর্বপদে অব্যয় যোগে যে সমাস হয় এবং যাতে অব্যয়ের অর্থটিই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমন— মানানোর অভাব = বেমানান, জলের অভাব = নির্জল ইত্যাদি।
অব্যয়ীভাব সমাসে অব্যয় পদটি সমিপ্য, বীপ্সা, অভাব, যোগ্যতা, অতিক্রম, পশ্চাৎ, পর্যন্ত ইত্যাদি অর্থে ব্যবহূত হয়ে থাকে।
16.
'তাসের ঘর' - অর্থ কী?
বক্তব্য বিষয়কে সৌন্দর্যমন্ডিত করার জন্য ভাষায় ব্যবহৃত বিশেষ অর্থবহ শব্দগুচ্ছকে বাগধারা বলে।
বাগধারার উদ্দেশ্য এক বা একাধিক পদের মিলনে কোন অর্থ প্রকাশ করে। যেমন— তাসের ঘর (ক্ষণস্থায়ী), তুলসী বনের বাঘ (ভন্ড)।
17.
'চন্দ্র'এর সমার্থক শব্দ নয় ----
চন্দ্র এর সমার্থক শব্দ - চাঁদ, নিশাকর, শশধর, হিমাংশু। অদ্রি এর সমার্থক শব্দ - পর্বত, অচল, গিরি, পাহাড়।
18.
"টাকায়" অসাধ্য সাধন হয় ---বাক্য নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কি দিয়ে' 'কিসের দ্বারা' বা 'কি উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই করণ কারক। সুতরাং নিম্নরেখ শব্দটি করণ কারক। আবার এটির সঙ্গে 'য়' থাকায় এটি সপ্তমী বিভক্তি।
19.
কোনটি শুদ্ধ বানান?.....
সঠিক বানান: শুশ্রুষা। শ্রুশ্রূষা শব্দের অর্থ - পরিষেবা, উপচর্যা। প্রদত্ত শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ।
20.
বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাবিহীন বর্ণ কয়টি?
মাত্রাহীন - ১০ টি।
স্বরবর্ণ ৪টি ( এ,ঐ,ও,ঔ)। ব্যঞ্জনবর্গ ৬টি (ঙ,ঞ,ৎ,ং,ঃ)
অর্ধমাত্রা - ৮টি। স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) । ব্যঞ্জনবর্গ ৭টি ( খ,গ,ণ,থ,ধ,প,শ)।
বাংলা বর্ণমালা মোট ৫০ টি। তার মধ্যে স্বরবর্ণ ১১ টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯।
পূর্ণ মাত্রা - ৩২ টি। স্বরবর্ণ ৬টি ব্যঞ্জনবর্গ ২৬টি।
বাংলা ব্যঞ্জন বর্ণে মাত্রাহীন বর্ণ কয়টি - ৬টি।
কোন বর্ণগুলোতে মাত্রা হবে না -।এ এবং ঐ।
বর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ অঘোষ।
বর্গের তৃতীয়,চতুর্থ, এবং পঞ্চম বর্ণ ঘোষ।
বর্গের প্রথম ও তৃতীয় বর্ণ অল্পপ্রাণ।
বর্গের দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ মহাপ্রাণ।
21.
'চপল' এর বিপরীতার্থক শব্দ কি?
চপল শব্দের অর্থ - তরল, চঞ্চল, অস্থির। প্রদত্ত শব্দটি একটি বিশেষণ পদ।
গম্ভীর শব্দের অর্থ - গভীর, অগাধ, গুরু, ভারভার, , ভারী ও নিম্ন স্বরযুক্ত। প্রদত্ত শব্দটি একটি বিশেষণ পদ।
তাই চপল শব্দের বিপরীত শব্দ গম্ভীর।
22.
যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেকটির নাম কি?
যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেকটির নাম সমস্যমান পদ।
সমাস এর পরিভাষা পাঁচটি। সমস্যমান পদ, ব্যাসবাক্য, সমস্তপদ, পূর্বপদ, পরপদ। সমাস যুক্তপ্রদেশ প্রথম অংশকে পূর্বপদ বলে। সমাস যুক্ত পদের পরবর্তী অংশকে পরপদ বলে। সমাসবদ্ধ বা সমাস নিষ্পন্ন পদটির নাম সমস্ত পদ। সমস্ত পদ কে ভাঙলে যে বাক্য পাওয়া যায় তাকে বলা হয় ব্যাসবাক্য।
23.
কোন বানানটি শুদ্ধ?.....
সঠিক বানান - পাষাণ। যার মানে নিষ্ঠুর, দয়ামায়াহীন।
24.
'কুসুমিত' শব্দের প্রকৃতি -প্রত্যয় কোনটি?
'কুসুমিত' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় হলো: কুসুম + ইত।
এটি একটি তদ্ধিত প্রত্যয়। এখানে 'কুসুম' (বিশেষ্য) শব্দের সাথে 'ইত' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে 'কুসুমিত' (বিশেষণ) শব্দটি গঠিত হয়েছে, যার অর্থ 'পুষ্পিত' বা 'ফুল ফুটেছে এমন'।
25.
কোন বানানটি শুদ্ধ?,.
শুদ্ধ বানান টি হল রূপায়ণ।
রূপায়ণ শব্দটির অর্থ হলো : রূপ দান, রচনা প্রকাশ, অভিনয়ে ভূমিকা গ্রহণ।
26.
যার আগমনের কোনো তিথি নেই ---- এক কোথায় কী?
- যার আগমনে কোন তিথি নেই - অতিথি ।
27.
কুল' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
'কুল' অর্থ - বংশ, গোষ্ঠী, গোত্র, অভিজাত্য, বংশমর্যাদা, কৌলিন্য, সন্তান ইত্যাদি।
28.
কোনটি শুদ্ধ বানান?....
সঠিক বানান: তিতিক্ষা। তিতিক্ষা শব্দের অর্থ - ক্ষমা, সহিষ্ণুতা, ধৈর্য ইত্যাদি। প্রদত্ত শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ।
29.
'ঢাকের কাঠি' বাগধারার অর্থ ---
ঢাকের কাঠি একটি বাগধারা।প্রদত্ত বাগধারাটির অর্থ - তোষামুদে/ চাটুকার। যেমন: তুমি তো বড় সাহেবের ঢাকের কাঠি,তিনি যা বলেন,তুমি তাই বলো।
30.
'তিমির' এর বিপরীতার্থক শব্দ কি?
তিমির শব্দের অর্থ অন্ধকার। অন্ধকারের বিপরীত শব্দ আলো।
31.
'পর্বত'এর সমার্থক শব্দ নয় ----
পর্বত এর সমার্থক শব্দ - পাহাড়, অচল, গিরি, শৈল, ভূধর, অদ্রি, মহীধর।
শিলা শব্দের সমার্থক শব্দ - পাথর, প্রস্তর, পাষাণ, উপল, মনি।
32.
কোন বানানটি শুদ্ধ?....
শুচিস্মিতা/ সুস্মিতা : ‘স্মিত’ শব্দের অর্থ ঈষৎ হাস্য’। ‘স্মিত’ শব্দের পূর্বে শুচি (অর্থ- পবিত্র) যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে শুচিস্মিতা (নির্মল হাসিযুক্ত)। অপরদিকে ‘স্মিত’ শব্দের পূর্বে ‘সু’ উপসর্গ যোগে গঠিত হয়ে সুস্মিতা অর্থাৎ ‘সুন্দর হাস্যযুক্তা’।
33.
‘কার্যে বিরতি’ অর্থে কোন বাগধারাটি প্রযোজ্য?
শব্দের প্রয়োগভেদে অর্থ বিভিন্ন ধরনের হয়। যেমন:
* হাত আসা ( দক্ষতা),
* হাত গুটানো ( কার্যে বিরতি),
* হাত ধরা ( আয়ত্তে আসা),
* হাত ছাড়া ( হস্তচু্ত),
* হাত থাকা ( প্রভাব),
* হাতের পাঁচ ( শেষ সম্বল) ইত্যাদি।
34.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
অহি - নকুল শব্দের ব্যাসবাক্য 'অহি ও নকুল'। দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ এর সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্য সংযোজক অব্যয় 'ও', 'আর', 'এবং' ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। প্রশ্নে প্রদত্ত অপর দুটি শব্দই নঞর্থক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। নয় ন্যায় = অন্যায়, নয় আসক্ত = অনাসক্ত। আমরণ এর ব্যাসবাক্য 'মরণ পর্যন্ত'। এটি অব্যয়ীভাব সমাস।
35.
সমাস কত প্রকার?
- সমাস প্রধানত ছয় প্রকার। যথাঃ দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, দ্বিগু এবং অব্যয়ীভাব সমাস।
- তবে দ্বিগু সমাসকে অনেক ব্যাকরণবিদ কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আবার কেউ কেউ কর্মধারয়কে তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ হিসেবে সমাস মূলত চারটি। যথা: দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি ও অব্যয়ীভাব সমাস।
এছাড়া আরও কিছু অপ্রধান সমাস আছে, যেমন: প্রাদি, নিত্য, অলুক, উপপদ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)
36.
'অলীক' এর বিপরীত শব্দ -
কিছু বিপরীত শব্দ: অলীক → বাস্তব/সত্য; মিথ্যা → সত্যি; অলৌকিক →লৌকিক।
37.
যে সমাসে পূর্ব পদের বিভক্তির লোপ হয় না তাকে বলে---
যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ হয় না তাকে 'অলুক সমাস' বলে।
অলুক সমাসে কখনো পূর্বপদে বিভক্তি লোপ পায় না। অলুক সমাস কোনো স্বতন্ত্র সমাস নয়, যেকোনো শ্রেণীর সমাস অলুক হতে পারে। যেমন - যুদ্ধের স্থির থাকে যে = যুধিষ্ঠির।
38.
নীল আকাশের নিচে আমি "রাস্তা " চলেছি একা---বাক্যে উদ্ধত শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
‘করণ’ শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। কর্তা যা দ্বারা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। যেমন - নীরা কলম দিয়ে লেখে ( উপকরণ - কলম )। ‘নীল আকাশের নিচে আমি রাস্তা চলেছি একা।’ ( উপায় - রাস্তা )।
39.
'উচ্ছ্বাস' শব্দটির প্রতিশব্দ নয় কোনটি?
উচ্ছ্বাস শব্দের প্রতিশব্দ গুলো হল - প্রবল ভাবাবেগ, উল্লাস, বিকাশ, স্ফূরণ, নিঃশ্বাস ইত্যাদি। উদ্ভাসিত অর্থ উন্মোচিত, বিকশিত।
40.
"বুলবুলিতে" ধান খেয়েছে ---বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই কর্তৃকারক। বাক্যটিতে 'বুলবুলি' কর্তা হিসেবে খাওয়া কাজটি সম্পাদন করা তা কর্তৃকারক এবং শব্দের শেষে 'তে' থাকায় তা সপ্তমী বিভক্তি।
41.
'আনন্দ' এর সমার্থক শব্দ নয় ---
আনন্দ শব্দটির সমার্থক শব্দ : পুলক, হর্ষ , হরষ , আহ্লাদ, সুখ, স্ফূর্তি, ফুর্তি , সন্তোষ, পরিতোষ , উৎফুল্লতা, প্রফুল্লতা , প্রসন্নতা , আমোদ, প্রমোদ , হাসি, উল্লাস , হৃষ্টতা , মজা
শ্রান্তি - [বিশেষ্য পদ] বিরাম, পরিশ্রমজনিত অবসাদ, নিবৃত্তি।
42.
কি "সাহসে" ওখানে গেলে? ---বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
কর্তা যা করে, অর্থাৎ যাকে আশ্রয় করেই কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে কর্মকারক বলে। বাক্যে সাহস কর্মকারক এবং 'এ' বিভক্তি যোগ হওয়ায় সপ্তমী বিভক্তি চিহ্ন। কাজেই সঠিক উত্তর কর্মের সপ্তমী।
43.
'মনীষা'---এর সন্ধি -বিচ্ছেদ -----
বাংলা ব্যাকরণে এমন কিছু সন্ধি রয়েছে যেগুলাে নিয়মবহির্ভূত, কিন্তু প্রচলিত। এদেরকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলা হয়। মনীষা নিপাতনে সিদ্ধ। যেমন আ + চর্য = আশ্চর্য, বৃহৎ + প্রতি বৃহস্পতি; মনস + ঈষা = মনীষা; ষট + দশ = ষােড়শ ইত্যাদি।
44.
'মনীষা' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
কিছু সন্ধি আছে যাদেরকে কোনো নিয়মে ফেলা যায় না। সেসব সন্ধিকে বলা হয় নিপাতনে সিন্ধ সন্ধি। ‘মনীষা’ নিপাতনে সিন্ধ সন্ধি। এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ ‘মনস + ঈষা’। এরূপ আরও কিছু নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি হলো: কুলটা + কুল + অটা, গবাক্ষ = গো + অক্ষ, সীমান্ত = সীমা + - অন্ত।
45.
কোনটি তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ ---
পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন - তেল দিয়ে ভাজা = তেলেভাজা, মন দ্বারা গড়া = মনগড়া, মধু দিয়ে মাখা = মধু মাখা ইত্যাদি তৃতীয় তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
46.
'অর্বাচীন'এর বিপরীতার্থক শব্দ -----
অর্বাচীন শব্দের অর্থ নবীন, আধুনিক, অপ্রবীণ। সুতরাং অর্বাচীন - এর বিপরীত শব্দ প্রাচীন।
47.
প্রাণভয় (প্রাণ যাওয়ার ভয়) কোন সমাস?
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য ব বিশেষ্য পদে সমাস হয় এবং পরপদের অর্থ প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলা হয়। এখানে প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়। সুতরাং এটি কর্মধারয় সমাস।
48.
'দিন যায় কথা থাকে'- এখানে 'যায়' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
এখানে 'যায়' শব্দটি অতিবাহিত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
এই বাক্যে 'দিন' বলতে সময়কে বুঝানো হয়েছে। সময় তো চলে যায়, কিন্তু ঐ সময়ে বলা কথাগুলো থেকে যায়।
49.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাস?
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। মুখে ভাত = মুখেভাত। এটি অলুক তৎপুরুষ সমাস। এ সমাসে পূর্বপদ এর বিভক্তি লোপ পায় না।
50.
'উল্লাস' এর সন্ধি বিচ্ছেদ -
উৎস + লাস = উল্লাস। এরূপ আরো কয়েকটি সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে: উল্লেখ, উল্লেখিত।