টপিকঃ প্রাইমারি প্রশ্ন ব্যাংক
1.
”প্রভাত সূর্যের” সমার্থক শব্দ কোনটি?
”প্রভাত সূর্যের” সমার্থক শব্দ অরুণ।
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ হল রবি দিনমণি ভানু। অন্যদিকে 'অরুণ' শব্দের অর্থ প্রভাতসূর্য ঊষাকালীন সূর্যের দীপ্তি ইত্যাদি।
2.
”তিনি ব্যাকরণে পন্ডিত”- বাক্যে ”ব্যাকরণে” শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
”তিনি ব্যাকরণে পন্ডিত” বাক্যে ”ব্যাকরণে” শব্দটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি ।
তিনি ব্যাকরণ বিষয়ে পারদর্শী বা পন্ডিত। স্থান, সময় বা বিষয়ে যোগ্যতা/দক্ষতা বোঝালে অধিকরণ কারক হয়। এখানে 'ব্যাকরণ' শব্দের সাথে 'এ' (ব্যাকরণ+এ) বিভক্তি যুক্ত হওয়ায় এটি সপ্তমী বিভক্তি।
3.
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
• 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসের রচয়িতা শওকত ওসমান।
• তাঁর রচিত আরও কয়েকটি উপন্যাস— জননী, জাহান্নাম হইতে বিদায়, সমাগম, দুই সৈনিক, নেকড়ে, অরণ্য, জলাংগী, রাজা উপাখ্যান, চৌরসন্ধি।
4.
জেলে ভাই ধরে মাছ মেঘের ছায়ায়- চরণটিতে জেলে কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- প্রদত্ত বাক্যটি হলো- 'জেলে ভাই ধরে মাছ মেঘের ছায়ায়'।
- এখানে ক্রিয়াপদ হলো 'ধরে'।
- 'কে' বা 'কারা' দিয়ে ক্রিয়াকে প্রশ্ন করলে কর্তৃকারক পাওয়া যায়।
- বাক্যটিতে 'কে মাছ ধরে?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়- 'জেলে ভাই'।
- যেহেতু কাজটি 'জেলে' সম্পন্ন করছে, তাই 'জেলে' হলো কর্তৃকারক।
- 'জেলে' শব্দটিতে কোনো বিভক্তি চিহ্ন (এ, য়, তে ইত্যাদি) যুক্ত হয়নি, অর্থাৎ মূল শব্দটিই বসেছে।
- বিভক্তি চিহ্ন স্পষ্টভাবে যুক্ত না থাকলে তাকে শূন্য বিভক্তি বা প্রথমা বিভক্তি বলা হয়।
- তাই 'জেলে' শব্দটি কর্তৃকারকে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি।
5.
সমার্থক শব্দগুচ্ছ শনাক্ত করুন-
শৈবলিনী; তরঙ্গিনী ও সরিৎ - এই তিনটি শব্দই 'নদী' শব্দের সমার্থক। অন্য অপশনগুলোতে ভিন্নধর্মী শব্দ (যেমন অর্ণব মানে সমুদ্র) রয়েছে।
6.
কোনটি 'অন্ধকার' শব্দের সমার্থক শব্দ?
অন্ধকারের সমার্থক শব্দ: আধাঁর , তমসা, তিমির, শর্বর।
9.
”সাক্ষী গোপাল” অর্থ কি?
* 'সাক্ষী গোপাল' বাগধারার অর্থ নিষ্ক্রিয় দর্শক বা যার কোন ভূমিকা নেই।।
* অকাল কুষ্মাণ্ড / আমড়া কাঠের ঢেঁকি / ঊনপাঁজুরে / কচু বনের কালাচাঁদ / ঘটিরাম / ঢেঁকির কুমির / ধর্মের ষাঁড় / নালায়েক প্রভৃতি বাগধারার অর্থ- অপদার্থ ।
10.
নেহাল "অঙ্কে" খুব কাঁচা-- বাক্যে উদ্ধৃত শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
12.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
বাংলা শব্দের শুরুতে ঊ - কারের ব্যবহার অনেক কম। তাই বানান মনে রাখার ক্ষেত্রে ঊ - কার যুক্ত শব্দ মনে রাখাই শ্রেয়। এক্ষেত্রে দু - একটি সূত্র: ১. বাংলা শব্দের প্রথম বর্ণে, খ ঙ ছ ঝ ঞ ট ঠ ড ঢ ণ থ ফ ষ এই ব্যঞ্জন গুলোর ওকার যুক্ত ব্যবহার দেখা যায় না। ২. শব্দের শেষে থাকলে তার অব্যবহৃত পূর্ববর্তী বর্ণের ঊ হয়। যেমন: রূঢ় গূঢ়।
13.
কোন দুটি বর্ণের পর ণ ও ষ হয় ?
'ণ' ব্যবহারের নিয়ম হলো ঋ,র,ষ এর পরে মূর্ধন্য ''ণ'' হয়।যেমনঃঋণ,তৃণ,বর্ণ, ব্যাকরণ, ইত্যাদি।
- আবার ''ষ'' ব্যবহারের নিয়ম হলো ''ঋ'' কারের পর ''ষ'' হয়। যেমনঃঋষি , কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
- আর তৎসম শব্দের 'র' এরপর 'ষ' হয়। যেমনঃবর্ষা ,ঘর্ষণ ,বর্ষণ, ইত্যাদি।
15.
একই সঙ্গে উচ্চারিত দুইটি মিলিত স্বরধ্বনিকে কি বলে?
16.
ব্যাকরণের কোন অংশে কারক সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়?
রূপতত্ত্ব: এক বা একাধিক ধ্বনির অর্থবোধক সম্মিলনে শব্দ তৈরি হয়, শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে বলা হয় রূপ / morpheme । রূপ গঠন করে শব্দ। সেই জন্য শব্দতত্ত্বকে রূপতত্ত্ব / Morphology বলা হয়। শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্বে আলোচিত হয় শব্দ ও পদের গঠন, ক্রিয়ার কাল, সংখ্যা, বচন, নির্দেশক, উপসর্গ, বিভক্তি, প্রকৃতি ও প্রত্যয়, ধাতু, প্রত্যয়, অনুসর্গ, চিহ্ন/লিঙ্গ, পক্ষ/পুরুষ, কারক, সমাস, দ্বিরুক্তি ইত্যাদি।
19.
বাংলা ছন্দ কত রকমের?
বাংলা ভাষায় ছন্দকে মাত্রাবৃত্ত, স্বরবৃত্ত ও অক্ষরবৃত্ত এই তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়।
- মাত্রাবৃত্ত ছন্দে যুগ্মধ্বনি সব সময় দুই মাত্রা হিসেবে উচ্চারিত হয়। পঙ্ক্তিতে পর্বগুলো সমান সংখ্যক মাত্রার হয়ে থাকে।
- স্বরবৃত্ত ছন্দে যুগ্মধ্বনি সব সময় একমাত্রার।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দে যুগ্মধ্বনি শব্দপ্রান্তিক হলে দু’মাত্রার শব্দের মাঝে বা প্রথমাংশে থাকলে সাধারণত এক মাত্রার ধরা হয়।
20.
'উলুখাগড়া' শব্দটির অর্থ কী?
উলুখাগড়া (গুরুতহীন লোক) : রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলুখাগড়ার প্রাণ যায়।
22.
জরা' এর বিপরীতার্থক শব্দ-
‘যৌবন’ এর বিপরীত শব্দ হল ‘জরা’।
‘যৌবন’ শব্দের অর্থ হল শরীরের ও মনের পূর্ণতা ও সতেজতা। অন্যদিকে, ‘জরা’ শব্দের অর্থ হল শরীরের ও মনের ক্ষয় ও অবক্ষয়।
23.
সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দিব কোথা -এখানে সর্বাঙ্গে শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি ?
24.
বাবা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তুর্কি শব্দ: বাবা, উজবুক, কাঁচি, কাবু, কুর্নিশ, কুলি, কোর্মা, খাতুন, চকমক, চাকু, তালাশ, তোপ, বন্দুক, বাবুর্চি, বারুদ, বাহাদুর, বেগম, মুচলেখা, লাশ, সওগাত ইত্যাদি।
27.
”তাসের ঘর” এর অর্থ কি?
তাসের ঘর শব্দের অর্থ - ক্ষণস্থায়ী।
বক্তব্য বিষয় কে সৌন্দর্য মন্ডিত করার জন্য ভাষায় ব্যবহৃত বিশেষ অর্থবহ শব্দ গুচ্ছ কে বাগধারা বলে। বাগধারার উদ্দেশ্য এক বা একাধিক শব্দের মিলনে কোন লক্ষ্যার্থ প্রকাশ করা। যেমন - তাসের ঘর ( ক্ষণস্থায়ী) , তুলসি বনের বাঘ ( ভণ্ড)।
28.
সৌভাগ্যের বিষয়' কথাটি কোন বাগধারা দিয়ে বঝানো হয়েছে?
29.
বাংলা বর্ণমালায় অর্ধ-মাত্রার বর্ণ কয়টি?
বাংলা বর্ণমালায় ঋ; খ; গ; থ; ধ; প; শ; স - এই ৮টি হলো অর্ধ-মাত্রার বর্ণ। পূর্ণ মাত্রার বর্ণ ৩২টি এবং মাত্রা হীন বর্ণ ১০টি।
32.
কোনটি “ক্ষুধার্ত” শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ?
34.
কোন ভাষার সাহিত্যে গম্ভীর্য ও আভিজাত্য প্রকাশ পায়?
⇒ সাধুভাষা ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুবির্দিষ্ট , তাই এ ভাষায় সাহিত্যের গাম্ভীর্য প্রকাশ পায়।
সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
১: সাধু ভাষায় সমাপিকা ও অসমাপিকা, এই দুই প্রকার ক্রিয়াপদেরই পূর্ণ রূপ ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া অনেকগুলি সর্বনাম পদেরও পূর্ণ রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: আসিতেছে, করিয়াছিলাম, দেখিয়াছি, বলিয়া থাকিব, শুনিতাম, ইহা, উহা, তাহারা, যাহার ইত্যাদি।
২: সাধু ভাষায় তৎসম শব্দের আধিক্য দেখা যায়। যেমন: গৃহ, ভবন, গগন, বাটী, তৃণ, ঘৃত, মৃগয়া, বৎস, হস্ত, পদ, বৃক্ষ, কুজ্ঝটিকা, মৃত্তিকা ইত্যাদি।
৩: সাধু ভাষায় অনুসর্গগুলির পূর্ণ রূপ দেখা যায় এবং কিছু তৎসম অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়। যেমন: হইতে, চাহিয়া, থাকিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি।
৪: সাধু ভাষা অনেকটা সংস্কৃত ভাষার অনুসরণে গঠিত হওয়ার কারণে এই ভাষার ধ্বনিঝংকার অপেক্ষাকৃত বেশি।
৫: সন্ধিবদ্ধ ও সমাসবদ্ধ শব্দের ব্যবহার সাধু ভাষায় তুলনামূলক ভাবে বেশি দেখা যায়।
৬: সাধু ভাষায় সংস্কৃত সংখ্যাবাচক শব্দের কিছু কিছু ব্যবহার দেখা যায়। যেমন: দ্বাদশ, চতুর্দশ, পঞ্চদশ ইত্যাদি।
৭: সাধু ভাষা মানুষের মুখে প্রচলিত ভাষার উপর নির্ভর করে গঠিত হয়নি, তাই এই ভাষা অপেক্ষাকৃত দুর্বোধ্য।
37.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
38.
”কান্নায় শোক কমে” বাক্যে “কান্নায়” কোন কারক?
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে ।
যেমন - সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়। কান্নায় শোক কমে।
39.
যা কষ্টে লাভ করা যায় ----
”যা কষ্টে লাভ করা যায়” তাকে এক কথায় বলে - দুর্লভ।
42.
”বিকৃত” শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয় কর?
”বিকৃত” শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয় হচ্ছে বি + কৃ + ত। সূত্র : বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান পৃষ্ঠা ৮৬৭ নং অনুযায়ী বিকৃত এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো বি + √কৃ + ত(ক্ত)।
46.
'কথা' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
কথা শব্দটির সমার্থক শব্দ ভাষা, বচন, উক্তি, প্রসঙ্গ, বিষয়, খবর, তথ্য, বিবরণ, বৃত্তান্ত ইত্যাদি।
47.
”লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু” -এর ইংরেজি অনুবাদ কোনটি?
48.
যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে তাকে বলে-
50.
'লবণ' এর সন্ধি বিচ্ছেদ ----
স্বরবর্ণ পড়ে থাকলে 'এ' কারের স্থানে 'অয়', ঐ - কারের স্থানে আয়, ও - কারের স্থানে অব, এবং ঐ - কারের স্থানে 'আব' হয়। ও + অ = অব + অ অর্থাৎ লো + অন = লবণ।